কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙ্গবে কবে ?

1
491
বরুণ ব্যানার্জী:

এখনো ভালোভাবে হাঁটতে শেখেনি। বয়স মাত্র তিন বছর। ইতোমধ্যেই ৪০০ কোটি টাকা লোপাট করেছে সে। বাহাদুর শিশু। দেশ, জাতি ও মাটির উর্বরতার প্রশংসা করতেই হয়। এই শিশুর নাম ফারমার্স ব্যাংক।  এর মধ্যেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ দিয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র থেকে জানা যায়, শাখা কর্তৃক যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে ঋণ আবেদন। প্রধান কার্যালয়ও কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া তা পর্ষদে উত্থাপন করেছে। সেই পত্রে অনুমোদনও হয়েছে ওই ঋণ। ঋণ অনুমোদনের আগেই গ্রাহককে সাময়িক ‘অনুমোদনপত্র’ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শুধু এই একটি ব্যাংকেই নয়। এ রকম হাজারো অনিয়ম আছে দেশের কয়েকটি ব্যাংকে। আমরা সরকারি ব্যাংকের কথা বলছি না। ওরা আমাদের নমস্য। দুর্নীতিকে ওঁরা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, যেখানে আর কারো পক্ষে ওঠা আর সম্ভব নয়।

ঋণ-সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ত্রুটিপূর্ণ ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থাকাকালে তার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ এসব ত্রুটিপূর্ণ ঋণ প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে এর সত্যতা খুঁজে পায়। দুদকের মতে, ক্রেডিট পলিসি অনুযায়ী পর্ষদ কোনো শর্তজুড়ে দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দিতে পারে না। না পারলেও দিয়েছে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ।

লোপাট হওয়া সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক ৫৬টি মামলা করে। মামলার পর দেড় বছর পার হয়েছে। কুম্ভকর্ণের ঘুম এখনো ভাঙেনি। আর সে কারণেই চার্জশিট আদালতের সিঁড়িতে এখনো পা রাখতে পারেনি। কবে তা পারবে তা বলাও সম্ভব নয়। এটাই এ দেশের বর্তমান কালচার বা সংস্কৃতি। এর বাইরে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কোনোটাই আমাদের নেই। সবটাই যেন আমরা হারিয়ে ফেলেছি। দুর্নীতি নামের অক্টোপাশ গোটা সমাজকে যেভাবে বেঁধে রেখেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। তবে, দুদক চেয়ারম্যান আমাদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন লঙ্ঘনকারী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের জিজ্ঞাসা, ‘কবে ও কোথায়। বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

1 COMMENT

LEAVE A REPLY