কুমিল্লার এসপি ও এসঅাইয়ের পদক লাভ

0
154

অনলাইন ডেস্ক :

কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহ আবিদ হোসেন বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই শহীদুল ইসলাম প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল পিপিএম (সেবা) লাভ করেছেন।

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের মধ্য দিয়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ সোমবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা যায়, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন ২০০১ সালে ২০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এএসপি হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

বিগত ২০১৫ সালের ৩১ মে তিনি কুমিল্লা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলার অপরাধ দমনে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারই দিক-নির্দেশনায় থানা পুলিশ, ডিবি ও অন্যান্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের নিরলস দায়িত্ব পালনকালে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে কুমিল্লা জেলা সারা দেশের মধ্যে শীর্ষ স্থান লাভ করে। এছাড়া সারা দেশের মধ্যে একমাত্র কুমিল্লাতে প্রথম তার উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পুলিশে চাকরি প্রার্থীর ডাটা এন্ট্রি, তাৎক্ষনণক ল্যাপটপ থেকে প্রবেশপত্র প্রিন্ট, আসন বিন্যাসসহ ফলাফল তৈরি অর্থাৎ প্রতিটি স্তরেই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নিয়োগে কোন ধরনের ভুয়া পরীক্ষার্থী বা জালিয়াতির সুযোগ ছিল না।

ডিবির এসআই শহীদুল ইসলাম: মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার শুশুন্ডা গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম ও মালেকা বেগমের ছেলে সহিদুল ইসলাম ১৯৯৬ সালের ১ জুন বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। কুমিল্লা ডিবিতে যোগদানের পর থেকে শহীদুল ইসলাম অনেক হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটন, অস্ত্র উদ্ধার, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।

বিশেষ করে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম ও এসআই শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ডিবির এই টিমটি জেলার অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে।

পদক প্রাপ্তির বিষয়ে ডিবির এসআই শহীদুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন এবং ডিবির ওসি একেএম মঞ্জুর আলমের দিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার সকল কর্মকর্তা ও সদস্য আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করার কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রতিটি অভিযানে সফলতা আসছে।

তিনি বলেন, এ পদক প্রাপ্তির ফলে ডিবি দায়িত্ব পালনে আরও বেগবান হবে। আর আগে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ গত বছরের পুলিশ সপ্তাহে পিপিএম (সাহসিকতা) পদক লাভ করেছিলেন।

পদক প্রাপ্তির বিষয়ে মুঠো ফোনে এক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, পুলিশের একার পক্ষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। আজকের এ পদক প্রাপ্তি  কুমিল্লা জেলা পুলিশের জন্য যেমন গৌরবের, তেমন কুমিল্লাবাসীর জন্যও আনন্দের।

এস এম পলাশ