কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিনিয়ত চলছে অনিয়ম আর দূর্নীতির মহোৎসব

1
454

তরিকুল ইসলাম লাভলু :

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে হয়রানি, দূর্নীতি আর অফিসে চলছে মহা অনিয়ম। আর এতে করে কালিগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন পরিণত হয়েছে দূর্নীতির আখড়ায়। বিভিন্ন ফি আদায়ের নামে দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য। জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানা অজুহাতে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসের নকল নবিশ এর মূল ভূমিকায় আছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রিার ও দূর্নীতির হোতা গাজী আবু হানিফ। সাব-রেজিস্ট্রিারের প্রকাশ্য মদদে দূর্নীতির আখড়া বানিয়ে রেখেছেন অফিসটাকে। কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস একের পর এক দূর্নীতির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কালিগঞ্জবাসী। অনুন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রিার গাজী আবু হানিফ এর স্বেচ্ছাচারীতা ও দুর্নীতির ফলে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ২৪৩টি মৌজার সাধারণ মানুষ চরম হতাশাগ্রস্থ। বিধি ১১৩ রেজিঃ আইনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দলিল নিবন্ধনের জন্য সময় সূচি থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রিার নির্ধারিত সময় সূচি অনুযায়ী অফিসে না আসায় জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেওে প্রত্যান্ত পল্লী থেকে আসা সাধারণ মানুষদের হতাশাগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। আরোও জানা যায় ১ জানুয়ারী ২০১৫ ইং হতে ৩১ অক্টোবর ২০১৬ ইং পর্যন্ত হস্তান্তরিত কোবলা দলিলের শতক প্রতি গড় মুল্য তালিকা যা` ২০১৭-১৮ ইং সালের জন্য প্রযোজ্য তাহা উপেক্ষা করে দলিল লেখক সমিতির মাধ্যমে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আর সমিতির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় অফিসে কর্মরত নকলনবিশ জাল মিউটিশন ও জাল দাখিলার মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রিারের সহযোগিতায় জমি রেজিস্ট্রি করায় সাধারণ মানুষ সমিতির কাছে কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এছাড়া  আরোও জানা যায়, সমিতির মাধ্যমে ছাড়া কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোন জমি রেজিস্ট্রি করা যায় না। রেজিস্ট্রিশন-ফির যৎসামান্য টাকা সরকারি কোষাগাওে গেলেও অবৈধভাবে আদায় করা সমুদয় টাকা চলে যায় রেজিস্ট্রিার ও দলিল লেখক সমিতির নেতাদের পকেটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলিল লেখক সমিতির এক সদস্য বলেন, আমরা মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশল আবলম্বন করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকি, সত্য কিন্তু এ টাকা জেলা রেজিস্ট্রিার ও সাব-রেজিস্ট্রিার আবু হানিফকে একটা পার্সেন্ট অনুযায়ী টাকার সমান ভাগ দিতে হয়। সরকারি কোন নির্দেশনা না থাকলেও কতৃপক্ষ বিষয়টি জানেন। কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসা একজন জমি বিক্রেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, আমি জমি বিক্রয় করতে এসে যেভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। এতে করে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কলিগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রিার গাজী আবু হানিফের দূর্নীতি ও তার কু-কর্মের দোষরদের বিরুদ্ধে আমি আইন মন্ত্রণালয়সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। অতিদ্রুত সাধারণ মানুষের মাঝে গাজী আবু হানিফের অপকর্মের চিত্র তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রিার গাজী আবু হানিফের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম দূর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন সুযোগ কী নেই সাধারণ মানুষের! কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রিারের সীমাহীন দূর্নীতি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহণ না করলে উপজেলার সাধারণ মানুষ সীমাহীন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংখ্যা করেছেন সচেতন মহল।