কালিগঞ্জে বাথুয়া ডাঙ্গায় কথিত গুনিন খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ

0
926

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:

কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বাথুয়াডাঙ্গায় সহিংসতা মামলার জেল খাটা আসামী ঠক,প্রতারক কথিত গুনীন আরিজুলের ক্ষপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ।শত প্রতারনা করে তার এই ভন্ডামী গুনিন ব্যবসা বহু বছর ধরে নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নাই । প্রশাসন, কথিত নামধারী সাংবাদিকদের মাসোহারা দিয়ে দিব্যি ১৫/১৬ বৎসর ধরে ঝাড় ,ফুক,তব্দীর ,তেলপড়া ,গাছড়া ঔষধ বানানোর নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সহজ সরল নিরীহ ব্যাক্তিদের ঠকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা । সোমাবার সকাল আনুমানিক ৮ টার সময় সরেজমিনে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নে বাতুয়াডাঙ্গা গ্রামের শাহমত আলীর ছেলে কথিত গুনিন ,কবিরাজ আরিজুলের আস্তাানায় গেলে এমন চিত্র ভেসে ওঠে। আর তার এই অপকর্মের সহায়তা করে আসছে একই গ্রামের জুয়াড়ী নজির হোসেন এবং নারায়ণপুর গ্রামের আফজাল হোসেন ওরফে মিঠু। এদের সঙ্গে সখ্য রয়েছে প্রশাসন এবং এলাকার কিছু অক্ষর জ্ঞানহীন কথিত সাংবাদিক। এরাই এর সবকিছু দেখভালোর দায়িত্ব নিয়ে দিব্যি বছরের পর বছর চালিয়ে আসছে বিনা পুজির এই অপকর্ম বাণিজ্য । সংবাদ সংগ্রহের জন্য কোন টিভি চ্যানেল বা পত্রিকার রিপোটাররা সেখানে গেলে তাৎক্ষনিক কথিত সেই অপকর্মের সহায়ক সাংবাদিকদের সরণাপন্না হয়ে থানায় যেয়ে মিথ্যা চাঁদা বাজির অভিযোগ দিয়ে নানা ভাবে হয়রানীর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ,মৎস্য বাজার ,শেট,জুয়া ,ক্যারামবোর্ড,বাল্য বিবাহ ভেজাল বিরোধী অভিযান সহ বিভিন্ন বিষয়ে উপজেলা ,জেলা প্রশাসন ভ্যামমাণ আদালত পরিচালনা করলেও কথিত আরিজুলের আস্তানায় রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে । প্রতিদিন ফজরের আযান দিলে ভোর হতে দেশের বিভিন্ন জেলা ,উপজেলা হতে আগত ব্যাক্তিরা বিভিন্ন সমস্যা যেমন টাকা ,সোনা ,গহনা স্বামী স্ত্রীর অমীল ,ক্যানসার ,প্যারালাইসিস ,পেট ব্যাথা ,জীন ,ভূত সহ বিভিন্ন রোগ সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন শত শত লোক এসে তার ভাই আব্দুর রউফের কাছে ১০ টাকা দিয়ে সিরিয়ালের টিকিট কেটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। তার পর কথিত গুনিন আরিজুল তার চেম্বারে সকাল ৯/১০ টায় বসলে শুরু হয় রোগী দেখা । চেম্বারে ঢুকে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য ৪/৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ক্ষেত্র বিশেষ ১০/১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তেলা পড়া ,পানি পড়া তদ্বীর গাছ গাছড়া দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাতে কাজ হোক আর না হোক মনের শান্তি নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরে যায়। ঐ সময় আগত দর্শনার্থী শ্যামনগর থানার নকীপুর গ্রামের স্বপন কর্মকারের স্ত্রী অর্পনা রানী এসেছেন স্বামী স্ত্রীরির ঝগড়া মিটাতে তাকে ১৫শ টাকা নিয়ে একশ গ্রামের একটি সরিষা তেলের শিশি দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার এসে তিন হাজার টাকা দিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে জানান । নৈকাটি গ্রামের রুহুল আমিন এসেছেন তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে হার্ডের রোগ সারানোর জন্যে তাকে তেল মালিশ এবং পানি পড়া বাবদ পাঁচ হাজার চারশ  টাকা দিতে হয়েছে। তালা থানার দেবরায় এবং তার স্ত্রী দিপালি রায় এসেছে গহনা হারোনোর সমস্যা নিয়ে প্রথমবার তাকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে গহনা ফেরত না পাওয়ায় আবার এসেছে দ্বিতীয় বার দেখাতে তবে এখোনো সিরিয়িাল পাননি।খুলনা জেলার তেরখাদা থানার মোনায়ারা এসেছে ধাত ভাঙ্গা রোগের জন্যে তাকে প্রথম বার দুই হাজার একশ  টাকা নিয়ে একটি মাদুলি ও পানি পোড়া দিয়ে কাজ না হওয়ায় দ্বিতীয় বার আজ তাকে এক হাজার টাকা দিয়ে একটি গাছড়া শিকড় দিয়েছে।ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার সমির রায় তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছে ক্যানসার রোগের জন্যে এই প্রথমবার তার নিকট থেকে আট হাজার টাকা নিয়ে তেল পড়া এবং গাছের ঔষধ দিয়েছে। এর আগে সে ভারত থেকে চিকিৎসায় তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ছনকা গ্রামের রাশিদা বেগম এসেছে তার স্বামী আজিজুল ইসলামের প্যারালাইসিস ভাল করানোর জন্য কিন্তু এখনো সিরিয়াল পায় নি বলে জানান । এই ভাবে শত শত নারী পুরুষ ভন্ড কবিরাজ কথিত গুনিন আরিজুলের আস্তানায় দীর্ঘ লাইন দিয়ে বিভিন্ন চত্বরে বসে আছে। আর বাহিরে নজির এবং মিঠু রোগীদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে হুজুরকে আকৃষ্ট এবং ভাল চিকিৎসা নিতে হলে একটু খরচ দিতে হলেও হুজুর এর ব্যাবস্থা করে দেবেন বলে আগত দর্শনার্থীদের মগজ ধোলাই করে চলেছে। সাংবাদিক দেখে নজির এবং মিঠু দ্রুত শটকে পড়ে । এব্যাপারে গুনিন আরিজুলের নিকট জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন লোক জন আমার কাছে আসে তাই দেখি। টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বাহিরে তার লোকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন । এ ব্যাপারে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন স্থানীয় বাসিন্দা  জালাল,ইউনুস,নরিম,প্রদীপ শ্রীকান্ত সহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট জানান দীর্ঘ দিনের এই লোক ঠকানো ব্যাবসা বন্ধ করা না হলে এলাকায় দুর্ভোগ নেমে আসবে। আরিজুলের এই ভন্ডামী ব্যবসা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের জন্য বিষয়টি জেলা প্রশাসন ,উপজেলা প্রশাসন ও থানার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসি। এ বিষয়ে  কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা লস্কর জায়াদুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি কিন্তু আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি । অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ আরাফাত আলী