কালিগঞ্জে কোয়াক ডাক্তারের অপচিকিৎসায় এস.এস.সি পরীক্ষার্থীর জীবন সংকটাপন্ন

0
276
নলতা প্রতিনিধিঃ
কোয়াক ডাক্তারের অপচিকিৎসায় ইসমাইল হোসেন (১৭) নামের এক এস.এস.সি পরীক্ষার্থীর পেটের নাড়ী বাষ্ট হয়ে জীবন সংকটপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে। ভুক্তভোগি ইসমাইল হোসেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার ইন্দ্রনগরের অহেদ আলী সরদারের ছেলে। এ বিষয় নিয়ে ইসমাইল হোসেনের মা আমেনা খাতুন প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ সুত্রে ও ইসমাইল হোসেনের মা আমেনা খাতুনের কাছ থেকে জানা যায়,২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায়  ইসমাইল হোসেনের পেটের ব্যাথা যন্ত্রণা হলে স্থানীয় কাজলা গ্রামের অবস্থিত আছিয়া ডাক্তার খানার পরিচালক ডাক্তার শেখ মনিরুজ্জামান মনি (ঘর জামাই), জানালে সে এসে প্রথমে নিজের ব্যাগ থেকে বের করে ৪ টি ইনজেকশন পুশ করে এবং কয়েকটি ট্যাবলেট খাওয়ায়। কোন উপকার না হয়ে দুপুর দুইটার সময় আরও ব্যাথা যন্ত্রণা বেশি হলে আবারও ডাক্তার মনিরুজ্জামান মনি এসে মলদ্বারের ভিতরের কয়েকটি বাতি দেয় এবং কয়েকটি ট্যাবলেট খাওয়ায়। এরপর ব্যাথা যন্ত্রণায় মটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকলে ডাক্তার মনিরুজ্জামান আমার পুত্রকে নলতা চৌমুহুনী আহ্ছানউল্লা ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর ক্লিনিকের মালিক আঃ বারী আমাদেরকে প্রথমে কোথায় চিকিৎসা করা হয়েছে জানতে চাইলে আমরা ডাক্তার মনিরুজ্জামানের কথা বলি এবং প্রেসক্রিপশনটি দেখাই। এসময় ক্লিনিকের মালিক আঃ বারী ভুল চিকিৎসা হয়েছে বলে জানায় এবং রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে রোগীকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে ডাক্তার মনিরুজ্জামান সদর হাসপাতালে চিকিৎসার মান ভাল নয় বলে জানায় এবং জোরপূর্বক সাতক্ষীরা ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে ৫ হাজার টাকা বিল হয় এবং মোটা অংকের টাকা খরচ হবে বলে জানালে আমরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এ মসময় ডাক্তার মনিরুজ্জামান তার নিজস্ব প্রেসক্রিপশন ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কৌশলে চলে যায়। আমরা রোগীকে নিয়ে সদর হাসপাতলে ভর্তি করলে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখা যায় প্রথমে ভুল চিকিৎসার ফলে পেটের নাড়ি ফেঁটে গেছে এবং অতিদ্রুত অপারেশন করা হয়। ডাক্তার মনিরুজ্জামানের ভুল চিকিৎসার কারণে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থসহ আমার ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কায় আছি বলেও তিনি জানান। তার অপচিকিৎসায় এলাকার অনেক অসহায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যা তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে। এদিকে বিএ পাশ না করেও ডাক্তার মনিরুজ্জামান নিজেকে বিএ পাশ, ডি.এম.এফ ঢাকা থেকে প্রক্ষিণপ্রাপ্ত,সদস্য বিআরএসএ ঢাকা, নবজাতক,মা ও শিশু,চর্ম ও যৌন চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলে নিজস্ব প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা আছে। এছাড়াও তিনি (ডাক্তার মনিরুজ্জামান) নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তারের চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বলে দাবি করেন বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ইসমাইল হোসেনের মা আমেনা খাতুন কোয়াক ডাক্তার মনিরুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। এবং অভিযোগের অনুলিপি,জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা, জেলা দুর্নীতি দমন ব্যুরো, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কালিগঞ্জ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা কালিগঞ্জ, অফিসার ইন-চার্জ কালিগঞ্জ থানা ও সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জনানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ তওহীদুর রহমান তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। অভিযুক্ত ডাঃ মনিরুজ্জামান মনি জানান,আমি প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছিলাম। তবে তিনি ভুল চিকিৎসা করেননি বলে জানান।