কলারোয়ায় রাতে ঘুষ নিয়ে সকালে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ

0
33

ডেস্ক রিপোট: সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার সেকেন্ড অফিসারসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাতে ঘুষ নিয়ে সকালে ফেরত দেওয়ায় পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন হালিমা নামে এক গৃহবধু। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে কলারোয়া প্রেসক্লাবে উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামের আওয়ামীলীগ সমর্থক আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী হালিমা খাতুন কলারোয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই আনোয়ার হোসেন ও এ.এস.আই সাঈদুর রহমানের বিচার চেয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ও লিখিত অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে হালিমা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার স্বামীসহ তার পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগ সমর্থক। তার দ্বিতীয় মেয়ের বি-ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ভারতে তার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে চেয়েচিন্তে ২৩,০০০ হাজার টাকা জোগাড় করে বাড়িতে রাখে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টার দিকে কে বা কারা তার বাড়ির দরজায় প্রচন্ড জোরে ধাক্কা মারতে থাকে। এ সময় তিনি দরজা খুলেই দেখতে পান পিস্তল হাতে ওই দুই দারোগাসহ কয়েকজন পুলিশ। কোন কিছু বলার আগেই তারা বলে বাড়িতে টাকা কত আছে। তিনি বলেন, তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক কষ্টে ২৩ হাজার টাকা গুছিয়ে রেখেছি। বলা মাত্রই দুই দারোগা বলেন, টাকাগুলি নিয়ে আয় তা নাহলে তোর স্বামীকে ক্রস ফায়ারে দিয়ে দিব। তখনই তিনি প্রাণ ভয়ে ঘর থেকে ২৩,০০০ হাজার টাকা এনে সাঈদ দারোগার হাতে দিয়ে দেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, এরপর দারোগা আনোয়ার আরো ২০ হাজার টাকা পাশ থেকে ধার করে নিয়ে আসতে বলে। তখন তিনি ওই গভীর রাতে জীবন বাজি রেখে পাশের বাড়ি রফিকুল ইসলামের নিকট ২০,০০০ হাজার টাকা ধার চেতে যায়। কিন্তু ফিরে এসে যখন টাকা ধার পায়নি বলেন তখন তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে অনেক অনুনয় বিনয় করলে, দারোগা সাঈদ বলে ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছি তবে কাল শুক্রবার সকাল ১০ টার মধ্যে আরো ২০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় আসবে। এ সময় তারা (দারোগা) যোগাযোগ করার জন্য একটি মোবাইল নং-০১৭৯৯-১০০৬১২ দিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে তিনি বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে বললে চেয়ারম্যান উপজেলা আ.লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানাতে বলেন। পরে সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার চেয়ারম্যানের বাসায় গিয়ে বললে তিনি বিষয়টি বিস্তারিত শুনে পুলিশের দেওয়া নম্বরটিতে কল দিলে দারোগো সাঈদ ধরে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ওসি সাহেবকে বললে ওসি সাহেব তাকে (হালিমা) থানায় পাঠিয়ে দিতে বলেন। তিনি থানায় গেলে ওসি সাহেব ওই দুই দারোগাকে ডাকেন এবং চিনেন কিনা বলেন। ওই দুই দারোগা আসার সাথে সাথে তিনি বলেন, এনাদের দুই জনের কাছে টাকা দিয়েছি। ওসি সাহেব তখন দারোগা আনোয়ার ও সাঈদকে টাকা ফেরৎ দিতে বলেন এবং ওসি সাহেবের সামনেই তারা তার দেয় ২৩,০০০ টাকা তাকে ফেরৎ দেন। টাকা নিয়ে থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাঈদ দারোগা বলেন টাকা নিয়ে বাড়ি যা এক সপ্তাহের মধ্যে বুঝতে পারবি বলে হুমকি দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন বলেন, কলারোয়া থানার দারোগা আনোয়ার হোসেন ও সাঈদ হোসেন উল্লেখিত আব্দুস সাত্তারের নিকট থেকে ২৩,০০০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তবে সকালে ওসি সাহেবকে বলার পর তারা টাকাগুলি ফেরৎ দিয়েছেন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে থানার সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন ও সাঈদ হোসেনেরে নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তারা ওই রাতে বাইরে কোন অভিযানে যাননি বলে জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ জানান, আব্দুস সাত্তার নামে ওই গ্রামের একজন থানার লিষ্টেট ব্যক্তি আছে। তবে ওইদিন রাতে ভুল বশতঃ উল্লেখিত আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা। এছাড়া টাকার লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, শুক্রবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে (হালিমা) থানায় পাঠালে বিষয়টি নিয়ে ভুলবুঝাবুঝির একটা সুরাহা করে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY