কলারোয়ায় কুরবানীর পশুহাটে চাহিদার তুলনায় দেশি গরুর সরবরাহ বেশি

0
55

কলারোয়া প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কুরবানী ঈদের শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে উঠেছে কুরবানীর পশুর হাট। পৌর পশুহাটে ভারতীয় গরুর তেমন দেখা না যাওয়ায় স্থানীয় খামারীদের দেশি গরুর চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি ছাগলের বেচাকেনাও জমে উঠেছে। এই ঈদে পৌরসদরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫হাজার পশু বেশি রয়েছে। উপজেলা প্রানিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসদরে ১টি স্থায়ী হাটসহ মৌসুমী হাটে কুরবানীর পশু বেচাকেনা জমে উঠেছে। হাটে ঘাস, খৈল, ভুষি খেয়ে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা গরু-ছাগলের বেচাকেনা ভালোই চলছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ হাট কর্তৃপক্ষ। তবে এ বছর দাম একটু বেশি বলে জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। গরু ক্রেতা উপজেলার সানি খান ও জহিরুল ইসলাম জানান, ভারতীয় গরু না আসায় এ বছর গরুর দাম একটু বেশি। পৌর বাজারের আনোয়ার মিয়া বলেন, ভিড় এড়াতে গত শুুক্রবার পশুহাট থেকে ২টি দেশি জাতের গরু কিনেছি। গরু কেনার সময় ভারতীয় গরু তেমন একটা চোখে পড়েনি। এ ক্ষেত্রে দেশি গরু কেনাবেচা জমে উঠেছে। বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, এ বছর দাম বেশি হওয়ায় ছোট আকারের গরুর চাহিদা বেশি। এ ধরনের গরু ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকার ভেদে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে দেশি গরু। গরুর পাশাপাশি এক একটি ছাগল ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানায়, প্রথম দিকে গরুর দাম ভালো পাওয়া গেলেও বর্তমানে একটু মন্দাভাব বিরাজ করছে। তাদের আশা শেষ দুই হাটে (সোমবার ও শুক্রবার)জমজমাট হয়ে উঠবে কুরবানীর পশুর হাট তখন দামও ভাল পাবেন তারা। কলারোয়া পৌর পশু হাটের ইজারাদার উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, সপ্তাহে দুটি হাটে পশু বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই থাকে। সারা দেশে ব্যাপক বন্যার ফলে এবার ঈদের পশু হাটে কুরবানীর গরুর চাহিদা বেশি থাকলেও বেচাকেনা একটু কম। তাছাড়া বন্যার কারণে বাইরের এলাকা থেকে পাইকারি ও খেতোয়াল ব্যাপারী না আসায় গরু হাটে আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না। এছাড়া জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনসহ কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাটে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে ও সুস্থভাবে বেচাকেনা চলছে। এ পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান। খামার মালিকসহ কৃষকরা জানান ভারতীয় গরু না আসায় এবার তাদের লালন পালন করা গরুর চাহিদা বেড়েছে। ঈদ পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করলে ভালো দামের আশায় থাকবে তারা। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান জানান, এ বছর পৌরহাটে প্রায় ৬ হাজার কুরবানীর পশু চাহিদা থাকলেও ৮হাজার গরু ও ২হাজার ছাগল প্রস্তত রয়েছে যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এখানকার বিভিন্ন গরু খামার এবং বাড়িতে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গরু বড় করা হয়েছে। কোনো ওষুধ ব্যবহার করে মোটা তাজাকরণ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, জাল টাকা রোধে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার বেচাকেনা নির্বিঘ্নে করতে পৌর কুরবানীর পশু হাটে অস্থায়ী পুুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব দেবনাথ জানান, সড়ক পথসহ কোথাও পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে কেউ যেন চাঁদাবাজি করতে না পারে সেদিকে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রেখেছি। তারপরও যদি কোথাও চাঁদাবাজি বা হয়রানি করা হয় তাহলে থানা পুলিশকে জানালে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

কামরুল হাসান