কর্মসূচির তালিকাকে কেন্দ্র করে কলারোয়ায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

0
221
ইয়ারব হোসেন:
৪০ দিনের কর্মসূচির তালিকাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা মালেক ধাবক (৫২)সহ ৪/৫জন আহত হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বাটরা বাজারে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ ও কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  ইউনিয়নে ৪০দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (দরিদ্র মানুষের মাটি কাটার কাজ) নাম তালিকাভুক্তির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাটরা এলাকায় আওয়ালীগের দুই গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এ ঘটনায় বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যার পর বাটরা বাজারে উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের কর্মি-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়।

তারা জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উভয় গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে এসময় ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা মালেক ধাবকসহ ৪/৫জন কর্মি-সমর্থক আহত হয়। এসময় একটি দোকান ভাংচুর করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষ বাজার ছেড়ে গ্রামের ভিতরে চলে যায় এসময় পুলিশ  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি।

স্থানীয় বাটরা এলাকার বাসিন্দা কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আমজাদ হোসেন জানান, ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা নিশান বিশ্বাসের নেতৃত্বে হামলায় স্থানীয় আ.লীগ নেতা মালেক ধাবকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে তবে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এবিষয়ে কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু দলীয় কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এ সংঘর্ষের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে সেখানে ৪০দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে নাম দেয়ার জন্য অনেকের নিকট থেকে টাকা নিয়ে তালিকায় সেসব ব্যক্তিদের নাম  না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা চলছিলো। সরকার সমর্থকদের কয়েক জনকে কাজ থেকে বাদ দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন জানান, এটা স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

পুলিশ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে উপজেলার বাটরা বাজারে দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের বিষয়ে জানতে পেরে তিনিসহ থানার পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান। এঘটনায় থানায় কোন গ্রুপ অভিযোগ করেনি।