কর্মসংস্থানে ‘খাঁচায় পাখি পালন’

0
85

বরুণ ব্যানার্জীঃ

প্রকৃতিতে দেশী পাখির সংখ্যা কমে গেছে। দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া, শ্যামার ডাক কম শুনতে পাওয়া যায়। প্রকৃতিতে যে সব পাখি থাকে। সেগুলো হল বন্য পাখি। বনে থাকে, সেখানেই ডিম বাচ্চা করে। মুক্তভাবে বড় হয়। আরেক প্রকার পাখি হল খাঁচার পাখি। যাকে বলা হয় কেইজ বার্ড বা খাঁচার পাখি। খাঁচার পাখি সারা বিশ্বেই খুব জনপ্রিয়। বাজেরিগার, লাভবার্ড, ডোভ, ফিঞ্চ, ককাটিয়েল, ম্যাকাও, সান কৌনর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য খাঁচার পাখি। ধরা যায়, পোষ মানানো যায়। খুব কাছ থেকে দেখা যায়। জীবনযাত্রা খুব বৈচিত্রময়। দেখতে খুব সুন্দর। পালন করা সহজ। ব্যবসায়িকভাবে পালন ও লাভজনক। খাবার দাবার সহজলভ্য। অল্প জায়গায় পালন করা যায়। এসব হল খাঁচার পাখিগুলোর জনপ্রিয়তার কারণ। খাঁচার মধ্যে এসব পাখি ডিম পাড়ে। বাচ্চাকে বড় করে তোলে। এসব পাখি খুবই সুন্দর। গত এক দশকে বাংলাদেশে খাঁচার পাখির উৎপাদন প্রচুর বেড়েছে। বেড়েছে পাখি পালকদের সংখ্যা। কিশোর, তরুণ, বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত, গৃহিনী সব ধরনের মানুষ পাখি পালনে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।
বাংলাদেশে খাঁচার পাখি রফতানি বন্ধ আছে। ফলে খামারীরা ভালো পাখি রফতানি করতে পারছেন না। সঠিক দাম পাচ্ছেন না। আবার যারা প্রচুর পাখি উৎপাদনে সক্ষম। এমন ব্র্রিডার হাত গুটিয়ে বসে আছেন। উৎপাদন বাড়ালে বাড়তি পাখি বিক্রি করবেন কোথায়। শাক সবজি, ফলমুল রফতানিতে যত রকম চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয়। পাখির বেলায় ততোটা নেই। বিদেশীরা বাংলাদেশী পাখি খামারীদের সাথে চুক্তি করে ও পাখি নিতে পারেন। এতে পাখির মান নিয়ে প্রশ্ন থাকবে না। সরকার পশু সম্পদ খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। এর থেকে সামান্য পরিমাণ অর্থ যদি এই খাতে ব্যয় করতো। পাশাপাশি রফতানি উন্মুক্ত করে দেয়া হতো তাহলে খাঁচার বিদেশী নানা রকম পাখি রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। পাখি পালনের সামাজিক সুফলও বহুমাত্রিক। যুবক, তরুণ যারা পাখি পালনের সাথে সম্পৃক্ত। তাদের সময় ভালো কাটে। বিপদগামী তারা কমই হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।