কন্যা শিশুকে অনিশ্চিত জীবনের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন

0
173
এড. শাহানাজ পারভীন মিলি:
শুক্রবার সবাই থাকে ছুটির আমেজে। আর এই দিনেই লাগে বিয়ের ধুম। শুক্রবার রসুলপুর স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মুন্নি কে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল পার্শ্ববর্তী জোহর আলির ছেলে পল্টু বাসারের সাথে। কন্যা বধু বেশে। কিছু পরেই আসবে বর। ইতিমধ্যে কাটিয়া ফাঁড়ি পুলিশ ও আমি নিজে হাজির হই। মেয়েটির ২ জানুয়ারী ২০০১ তারিখে জন্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কোন প্রমাণ ছাড়াই এফিডেফিট করে দিয়েছেন, জন্ম নিবন্ধনে বয়স ভুল লেখা হয়েছে বলে মুন্নিকে ১৮ বছর বানিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসাতে আরো একধাপ এগিয়ে দেয়। মেয়ের দাদা মজিদ মাষ্টার রীতিমত আয়োজন করে এই বিবাহের। অন্যদিকে, চীফ জুডিশিয়াল সহ কয়েকজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গত লিগ্যাল এইড মিটিং এ বলেন, নোটারী পাবলিককে এফিডেফিট করার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের দোষ কোথায়? তাই বলে কি মুখের কথায় এফিডেফিট করার জন্য কি তাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে? এসময় আমি সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মারুফ আহম্মেদকে ফোন দেই। তিনি বললেন যে আমরা আগে কেন বলিনা। আয়োজন করা হয়ে গেলে তাদের নাকি খুব খারাপ লাগে। কারা কারা বাড়ি বসে বিয়ের কথা পাকা করছেন সেটাও আমাদের খোঁজ দিতে বলেন। তাহলে কি পুরো ব্যাপরটা কি আমাদের খোঁজ রাখতে হবে? যাই হোক কাউকে না পেয়ে নিজেই ফাঁড়ি পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা সম্পাদন করে বিয়ে বন্ধ করলাম। আবার তাদের একান্ত অনুরোধে খেতেও হল। আইন অনুযায়ী এই কাজটি যে কেউ করতে পারে। আপনিও এগিয়ে আসুন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে। রক্ষা করুন একজন কন্যা শিশুকে অনিশ্চিত জীবনের হাত থেকে। তাই আসুন সকলে মিলে এক সাথে বাল্য বিবাহকে না বলি এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলি। শিশুর সুন্দর ভবিষৎ গড়ি।
লেখক: জেলা পরিষদ সদস্য