এরশাদের জ্যোতিষবিদ্যা; সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্যে

0
42
ডেস্ক রিপোর্টঃ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যে নেমে এসেছে। সরকারের ভবিষ্যতবাণী করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় হবে। তাই জাতীয় পার্টি এখন সোনার মতো মহা মূল্যবান।
রোববার দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সন্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, দেশের মানুষ এখন জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। দুই দলের কবল থেকে মুক্তি চায়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সীল মাড়ার নির্বাচন চায় না। সুষ্ট নির্বাচন চায়। এক জনের শাষন চায় না বলে দাবি করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষদূত। তিনি বলেন, আমরা মফিজ হয়ে বাঁচতে চাই না। আমরা প্রাদেশিক ব্যবস্থা চাই।
জাপা চেয়ারম্যান রংপুরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী নির্বচনে রংপুরের ২২টি আসন উপহার দিন, আমি ক্ষমতায় যাব। তিনি বলেন, রংপুর ছিল জাতীয় পার্টির দূর্গ। মেরামত করতে হবে সেই দূর্গ। আগামী নির্বাচন জাতীয় পার্টির বাঁচা মরার নির্বাচন।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে এরশাদ বলেন, আমাদের আর অবহেলা করবেন না। অনেকটা বছর ক্ষমতার বাহিরে আছি। চারিদিকে লুটপাট, শেয়ার বাজারে লুটপাট। প্রশাসন চলে না। এখন সর্বত্র শুধু দলীয়করণ। ব্যাংক খালি। ব্যাংকে টাকা নাই। লুটপাট করা হয়েছে। পানামা পেপারে সব নেতার নাম আছে। দেশের টাকা পাচার করা হয়েছে। তাদের কোনো বিচার নাই।
গত দুই মাসে দেশে ৩ শ ৮৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমরা সবাই ধর্ষিতা। বাল্য বিবাহে আমরা বিশ্বে এক নম্বর। স্কুলে যাওয়ার পথে শিশু ও কিশোরীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।দেশে এখন নারী নির্যাতন একটা খেলায় পরিণত হয়েছে। যেন দেশে নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করাই অপরাধ। গত দুই মাসে ২৮৭ জন নারী ধর্ষিতা হয়েছে। শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বসবাসে অযোগ্য শহর। যতই মেট্রোরেল আর ফ্লাইওভার করি না কেন, কোনো লাভ নেই।যানজন নিরসন হবে না। ঢাকা এখন বসবাসের উপযোগী নয়। দেশের ১৩৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে ১০০টি বেসরকারি। সেখানে টাকা দিয়ে সনদ কেনা যায়। সেখান থেকে বিবিএ এমবিএ পাশ করে বেকার থাকছে তরুণরা। তাদের চাকরি নাই। তারা মাদক খায়। ইয়াবা খায়।
জাপা প্রধান বলেন, স্কুলে যাওয়ার পথে শিশু ও কিশোরীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে পিতামাতারা বাল্য বিয়ে দিচ্ছেন। যে সরকার মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে পারে না। তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা কখনও ঘটেনি।
এরশাদ বলেন, দেশে চাকরি নেই, নেই শিল্প প্রতিষ্টান। সব জায়গায় পাওয়া যায় ইয়াবা। হতাশায় যুবকরা মাদক নেয়। তিনি বলেন, বর্তমানে ৫০-৬০ টাকা দরে গরীব মানুষকে চাল কিনতে হয়। প্রয়োজনীয় ট্রেনিং না থাকায় এদেশের শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে অর্ধেক বেতন পায়। দেশে এখন ৬ কোটি ৩০ লাখ শ্রমিক। তাদের শিক্ষা নেই। বিদেশে যারা শ্রমিক হিসেবে যায় তারা রাস্তায় ঝাড়ুদারের কাজ করে। লজ্জা লাগে আমাদের। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল করা দরকার। যাতে টেকনিক্যাল জ্ঞান নিয়ে শ্রমিকরা দেশের বাইরে যেতে পারে।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, বিচার ব্যবস্থা সহজ করতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্ত তিনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় গিয়ে সেটা তুলে নিয়ে তৃণমূলের বিচারপ্রার্থীদের হতাশ করেছেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে সন্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, মেজর অবসরপ্রাপ্ত খালেদ আখতার, রংপুর সিটি মেয়র ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রাইম-সনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. আক্কাস আলী সরকার, সালাহ উদ্দিন এমপি, শওকত আলী চৌধুরী এমপি, শাহানারা বেগম এমপি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরসহ জেলার ৮ উপজেলার জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা।
সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হাজী আব্দুর রাজ্জাক। পরে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম. ফখরু-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের নাম ঘোষণা করেন এরশাদ।
সম্মেলনে অন্তত ৩০ হাজার নেতাকর্মীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ও আশেপাশের রাস্তাঘাট। নেতাকর্মীরা সকাল থেকে গেঞ্জি, ক্যাপ, ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সম্মেলনস্থলে সমেবত হন।