এনবিআরের ‘হালখাতা উৎসব’

0
119

অনলাইন ডেস্ক :

বকেয়া আদায় নয়, পরিশোধ’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৪২৪ বাংলা নববর্ষে দেশব্যাপী ‘হালখাতা উৎসব’ আয়োজন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন সব আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অফিসের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে হালখাতা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এনবিআরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, “নববর্ষ বাংলার ঐতিহ্য। বাঙালি জাতির স্বাতন্ত্র্য ও সত্তার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ বছর আমাদের অন্যতম উদ্ভাবন হল হালখাতা। ‘হালখাতা’ আমাদের বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম ধারক। তাই বাঙ্গালির চিরায়ত এ উৎসবের মাধ্যমে আমরা বকেয়া কর সংগ্রহ করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, ‘করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে সব অংশীজন ও নাগরিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের বড় শিল্প-প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, ইন্ডাস্ট্রি সবই এলটিইউ’র অধীনে রাজস্ব প্রদান করে থাকে। এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় এলটিইউ ‘ওপেন হাউজ ডে’র পরিবেশে ‘রাজস্ব হালখাতায়’ ব্যতিক্রমী আয়োজন করতে যাচ্ছে। এতে দেশের রাজস্বক্ষেত্রে বড় অবদান রাখা শিল্পপতি, ব্যাংক, বীমাসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন; বড় আকারে বকেয়া রাজস্ব প্রদান এবং নববর্ষে হালখাতার ঐহিত্যবাহী ভোজনে অংশ নেবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজস্ব হালখাতা চলবে। এছাড়া বৃহৎ করদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দুপুর ১টায় এলটিইউর (সেগুনবাগিচার সরকারি অফিসের ৭ম তলা) সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি এবং এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এলটিইউ ছাড়া সকল কর অঞ্চলে উৎসবের আমেজে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যেন্ত ‘রাজস্ব হালখাতা’ অনুষ্ঠিত হবে। এনবিআর সূত্রে আরও জানা যায়, এনবিআর থেকে করদাতা, অংশীজন, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ীসহ সর্বসাধারণকে এ উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। হালখাতা অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির অধীনস্থ সকল আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অফিসের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তুতির মধ্যো রয়েছে- করদাতা, অংশীজন ও স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বৃহৎ করদাতাদের আমন্ত্রণ জানানো; বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব সংস্কৃতির আদলে একটি গেট নির্মাণ ও অফিস সজ্জিত রাখা; দেশে তৈরি মিষ্টি, মোয়া-মুড়কি, বাতাসা ও স্থানীয় সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা; হালখাতা অনুষ্ঠানে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ক টিভিসি প্রদর্শন করা এবং অনুষ্ঠানটি যথাযথভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা।

এস এম পলাশ

LEAVE A REPLY