একজন শিক্ষকের চঞ্চলকে নিয়ে কিছু কথা

0
111

শ্যামনগর প্রতিনিধি:

মোবারক, ভাল নাম মেহেদি হাসান চঞ্চল। ২০১৪ সালের আমাদের স্কুল থেকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল শিল্পীর গানের মত…
“ছেলে আমার বড় হবে,
হবে মানুষের মত মানুষ,
এক লেখা ইতিহাসের পাতায়।”
এই তো সেদিন ইন্টার স্কুলে ও গোল করল। স্কুলে প্রধান শিক্ষক বাদে আমি একাই ছিলাম পুরুষ শিক্ষক। সে কারণে আমার সাথে ওর সখ্যতা একটু বেশিই ছিল।  ভাল একজন ফুটবলার, অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতা। আমি একটা সময় ভাবতাম  যদি ঠিকঠাক সুযোগ পেত তাহলে বিরাট ফুটবলার হতো। প্লে,দিয়েগো,বেকহাম কিংবা জিদান হয়ত হতনা, কিন্তু আলফাজ-মমিনুল কিংবা বাইচুং ভুটিয়া হয়ত হতে পারত। লেখা পড়ার আগ্রহ খুব বেশি ছিল না।  স্কুল পালিয়ে ঠাকুর বাড়ির ওই ছেলেটার মত বিখ্যাত নোবেল জয়ীদের কেউ হতেও পারত। হয়ত সাহিত্যে নয়, হয়ত জেগে ওঠা কোন অন্য কোন সম্ভাবনার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে পারত।আর কিছু না পারলে ওর মায়ের চোখের জলটা তো মোছাতে পারত! পারত বাবার জন্য ইটের ভাটা থেকে বছর শেষে একটা জায়নামাজ এর কাপড় কিনে আনতে! ক্লাস টুতে পড়া বোনের জন্য ছোট রঙিন শাড়ি আনতে!ওর স্বাভাবিক বৃদ্ধিটা ছিল কম। আমরা ভাবতাম ওর বাবা কিম্বা মা মনে হয় বাটুল গোছের। কিন্তু সেদিন ওদের বাড়িতে সবাই দেখতে গেলাম। ছবি তুললাম, কেহ অন্তরে, কেহ বাহিরে সবাই কাদলাম। ৫ টা বছর কত নালিশ ওর নামে!
না, আর হয়ত কোন দিন নালিশ আসবে না ওর মাধ্যমিক এর শিক্ষকদের কাছে। হয়ত বাবার কাছেও চাইবে না একটি রঙিন সাইকেল।মাকে জড়িয়ে হয়ত বলবেনা “মা আমার নতুন জামাগুলি আমার সামনেই রাখো।”
আজ চঞ্চল দুরারোগ্য ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। শেষ মূহুর্তে টের পাওয়া, সারা শরীরে ছেয়ে গেছে ক্যান্সার, খাওয়া দাওয়া বন্ধ। নাক এবং কান দিয়ে রক্তের প্রবাহ। বাবা-মা ও আশা ছেড়ে দিয়েছে। জীবিত সন্তানের গায়ে কেমো নামক ‘বিষ কাটাতে বিষ’ দিতে নারাজ তারা। আর্থিক স্বচ্ছতাও নেই ওদের।
সময় শেষ। কোন চাওয়া নেই। শুধু চাওয়া একটু দোয়া করবেন বিধাতার কাছে। উনি সব পারেন। উনি ফিরিয়ে দিক এই তরুণ প্রাণ চঞ্চল’কে। বাবা-মায়ের কাছে তাদের কলিজা ছেড়াধন প্রিয় মোবারককে।

এস কে সিরাজ

LEAVE A REPLY