ইয়াবার ভারে ডুবছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

0
53

বরুণ ব্যানার্জী:

বর্তমানে বাংলাদেশের অপরাধ উপকরণগুলোর মধ্যে মাদকের সাথেই বেশি পরিচিত সাধারণমানুষ। আর মাদকের কথা আসলেই শীর্ষে থাকে ইয়াবা। এই ইয়াবা শব্দটা থাই শব্দ, যার অর্থ পাগলাঔষধ। থাইল্যান্ডে ইয়াবার ব্যবহার ও উৎপাদন বেশি বলে নেশাজাতীয় বস্তুটির নাম রাখা হয়েছিলইয়াবা বা ক্রেজী মেডিসিন। এই পাগলা ঔষধ কিন্তু সময়ের সাথে ভয়ঙ্কর রূপে পরিবর্তন করছেদেশের পরিবেশ, হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে তরুণ সমাজ,ধ্বংস করছে মেধা। পার্শ্ববতী দেশ মায়ানমার থেকে আমাদের দেশে ইয়াবার আবির্ভাব ১৯৯৭ সালে। বাংলাদেশ–মায়ানমার সীমান্তে তখন চোরাকারবারীদের সহজ রোড টেকনাফ হওয়ায় ইয়াবার চালান টেকনাফহয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। অতঃপর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া–সর্বত্রই মাদকব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়াবার দাম তখনকার সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ারকারণে উচ্চবিত্তের মাঝেই শুধু এটি বিস্তার লাভ করে। পরবর্তিতে ইয়াবার দাম মধ্যবিত্ত বানিম্নবিত্তের নাগালে আসায় বর্তমানে তা ভয়াবহতায় রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের মানচিত্রে টেকনাফ ছোট্ট একটা এলাকা যা দুর্ভাগ্যবশত মায়ানমার সীমান্তে পড়েছে।এই দুর্ভাগ্যের সাথে সামাজিক অসচেতনতা, শিক্ষা ও দেশপ্রেমের অভাব যুক্ত হয়ে বিশ্বের অন্যতমও দেশের সেরা দৃষ্টিনন্দন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ভরপুর আমাদের প্রিয় টেকনাফকে ইয়াবার ডিপোহিসেবে কলঙ্কিত করছে। এই কলঙ্ক চিহ্ন আমি, আপনি বা আমরা কেউই প্রতিকারহীন থেকেমেনে নিতে পারিনা, পারব না। আজকের ইয়াবার ভয়াবহতায় টেকনাফবাসীর কলঙ্কের বোঝা বেশিহওয়ার কারণ কিন্তু অপাত্রে ভোট দান। টেকনাফবাসীরা সামাজিক দায়িত্বভার কিন্তু অপাত্রেই দিয়েরেখেছে। অযোগ্যতা যেখানে নেতা হওয়ার যোগ্যতায় পরিণত হয় সেখানকার মানুষের মাঝেপ্রতিবাদ কিংবা প্রতিকার চাওয়ার বৈধতা থাকবে কি না সেটা আজ বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।অসৎ উপার্জনের টাকার কাছে পরাস্থ হয়ে এলাকাবাসী অপবাদের লাঞ্ছনাকে মেনে নিতে বাধ্যহচ্ছে। টেকনাফের এ অবস্থা চলতে থাকলে অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ও এলাকার প্িরতনিধিত্বকরতে স্থানীয় যোগ্য লোকের অভাবে বাধ্য হয়ে অন্য কোন জেলা কিংবা বিভাগ থেকে লোকনিয়োগ করতে হবে। আর তখন টেকনাফবাসীরা নিজের মাটিতেই অসহায় হয়ে অযোগ্যতারসার্টিফিকেট নিয়ে হাঙ্গর–তিমিদের নিরাপত্তায় নিজেদের বলি দিতে থাকবেন। আজকেরঅসচেতনতা, কালকের দাসত্বে পরিণত হবে কিনা ভেবে দেখারও সময় এসেছে। সন্তানদের শিক্ষারআগ্রহে আগ্রহী করা দরকার, টাকার নয়। আত্মসম্মানবোধের শিক্ষা দেয়া দরকার, দুর্বত্তাগিরিরআস্ফালন নয়। অপার সম্ভাবনাময় আমাদের প্রিয় টেকনাফকে কলঙ্কমুক্ত করতে দরকারসামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা। মাদক নিয়ন্ত্রণে ইয়াবার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা যেমন জরুরী, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করাও কিন্তু কমজরুরী নয়। সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি মনে হয় বর্তমানে লোকদেখানো। তবে, আন্তরিকভাবেকঠোরতা দেখাতে পারলে এটি হবে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। চোরাচালানে উৎসাহদানকারীহাঙ্গর–তিমিরা কখনো জালে আটকায়না। তারপরও জানা ও অজানা কিছু কারণে জাল ফেলানোহয় অগভীর পানিতে। যেখানে কাজ দেখানোর প্রতিযোগিতায় অসহায় ও নিরপরাধরাও রেহাইপায়না। অগভীরে যাদের বিচরণ, জাল ছিঁড়ে বের হয়ে যাওয়ার শক্তি বা কৌশল তাদের থাকে নাবলেই হয়তো! তাই, আরো স্বচ্ছতা ও পেশাদারীত্বের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে অবৈধভাবে অর্জনকরা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে টেকনাফের পরিচিতির পবিত্রতা রক্ষা করাঅত্যাবশ্যক।