ইভটিজিং-বাল্যবিবাহ বন্ধে কলারোয়া ইউএনও’র প্রশংসনীয় উদ্যোগ

0
32
জুলফিকার আলী,কলারোয়া:
কলারোয়া উপজেলাকে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন। উপজেলাকে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীনের ভূমিকা ইতিমধ্যে খুবই প্রশংসনীয় হয়েছে। তিনি কলারোয়াতে যোগদানের পর হতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ সড়ক ও স্কুল গেইটে ও শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার রাস্তায় কোন ছেলে কোন মেয়েকে উত্যক্ত করছে কিনা? এই রকম তিনি জানতে পারলে সাথে সাথে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে ইভটিজিং বর্তমানে কলারোয়াতে নেই বললেই চলে। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি বাল্যবিবাহ বন্ধে করতে সক্ষম হয়েছেন। বাল্য বিবাহ নিরোধে তার ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন জানান, অফিসিয়াল মোবাইল ও অফিসিয়াল ফোন নাম্বার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিকট দেওয়া হয়েছে। আমার নিকট যে কেউ ফোন করে বা মেসেজ করে যে কোন অপরাধের তথ্য পাঠালে আমি তরিৎ গতিতে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। যে কোন ও মূল্যে তিনি কলারোয়াকে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় ইউএনও’র দপ্তরে সেবা নিতে আসা পৌরসদরের মুরারিকাঠি গ্রামের কলারোয়া গার্লস পাইলট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা সাবিনা খাতুনের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়, তিনি জানান-তার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে এবং স্কুলে আসার পর এলাকার কয়েকটা বখাটে অশ্লীল প্রস্তাব ও কথাবার্তার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতো আমি বিষয়টি গত শনিবার ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বখাটেকে কারাদন্ড প্রদান করেন। তার মেয়ে এখন নির্ভয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে পারছেন। আমরা ইউএনও স্যারের এই মহতী উদ্যোগে খুবই খুশী। নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন কলারোয়াতে যোগদান করেন গত বছরের ২৮ আগস্ট। যোগদানের পর থেকে এই ৮ মাসে তিনি ১৮জন বখাটেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা প্রদান করেছেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বাল্যবিবাহ বন্ধের পাশাপাশি তিনি সেই সমস্ত ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলারোয়া-হামিদপুর মাদ্রাসা সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন। কলারোয়া উপজেলাধীন হামিদপুর সিদ্দীকিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অপরাধে  দুই বখাটেকে দণ্ডবিধি’র ৩৫৪ ও ৩০৯ ধারায় ০৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলো উপজেলার আলাইপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে হোসেন বাবু(১৮), একই গ্রামের শাহাজাহান আলীর ছেলে রাবিব্ব হাসান(১৮), একই সময়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় ১ যুবককে ১০হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। অর্থদন্ড প্রাপ্ত বখাটের হলো-উপজেলার আলাইপুর গ্রামের আ: মজিদ এর ছেলে শেখ ফাহিম(১৯)। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকলে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তার বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নান।