ইবাদতে মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

4
214

অনলাইন ডেস্ক:

আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য আমল হলো যা আন্তরিকতা ও মনোযোগের সঙ্গে করা হয়। কিন্তু আমাদের অনেকেরই ইবাদতে মনোযোগ কম। আমরা নামাজ পড়ি, অন্যান্য ইবাদত করি ঠিকই, কিন্তু মনোযোগের সঙ্গে নয়। এজন্য এসব ইবাদতের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারি না। ইবাদতে মনোযোগ না থাকা এটা মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি। একজন মুমিনের এই ব্যাধির চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি।

ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে বিখ্যাত দার্শনিক ইমাম গাজালি (রহ.) বলেছেন, যে লোক আল্লাহর ইবাদতে মুজাহাদা বা চেষ্টা-সাধনা করে তার সাহচর্যে থাকবে, তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং তার অনুসরণ করবে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িন ও তাদের পরের বুজুর্গদের জীবনচরিত পাঠ করবে। তাদের রিয়াজত, মুজাহাদা, চেষ্টা-সাধনা এবং ইবাদতের অবস্থা পড়বে এবং শুনবে। তাদের জীবনচরিত দেখে জ্ঞানের চক্ষু খুলে যাবে। তখন বুঝবে তুমি এবং তোমার সময়ের লোকেরা দীনদারি থেকে কত দূরে। ইবাদতে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য এটা অনেক ফলপ্রসূ এবং উপকারী বিষয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান সময়ের লোকেরা তাঁদের অনুসরণ করে না (মাজালিসে আবরার)।

শয়তান আমল-ইবাদতে মনোযোগ নষ্ট করতে মানুষের কাছে ধোঁকা দেয়ার মতো বিভিন্ন বস্তু এনে হাজির করে। ওইসব ক্ষতিকর বস্তুকে তার কাছে প্রিয় করে তুলে ধরে, কিন্তু ইবাদতকারীর কাছে তাই বেশি আকর্ষণীয় এবং উপকারী মনে হতে থাকে। তার আমল-ইবাদত অপ্রিয় করে তুলে ধরে, তখন তার কাছে আমল-ইবাদত গুরুত্বহীন এবং অপকারী মনে হতে থাকে। এভাবে অনেক মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে কাফের, মুশরিক, বেদআতি ও পথহারা করে ছেড়েছে। তারা হাবুডুবু খেতে থাকে পাপের সাগরে। বস্তুত শয়তান কখনো প্রকৃত মুমিনকে ধোঁকা দিতে পারে না। তারা নফসের চাহিদামতো কাজ করে না, তাই তাদের ধোঁকা দিতে পারে না। তারা শয়তানের ধোঁকা অনুধাবন করতে পারে, নফসের ছলচাতুরি বুঝতে পারে। বর্তমান সময়ে এসব ফিতনা থেকে বাঁচার একটি ভালো উপায় হলো, সুন্নতের অনুসারী কোনো সত্যিকার আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে দীক্ষা গ্রহণ করা। হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবি (রহ.) বলেন, পরনারীর দিকে ইচ্ছাকৃত তাকিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা শয়তানের কুমন্ত্রণা বরং উত্তম হলো পরনারীর দিকে তাকাবেই না। শরিয়তে কুদৃষ্টিও জিনা-ব্যভিচারের শামিল। নফস সাধনা-মুজাহাদার যে নিয়ম বলছে তা কোনো সাধনাই নয় বরং পরনারীর দিকে না তাকানোই প্রকৃত সাধনা। তাই দৃষ্টির হেফাজত করবে। নফসের ওয়াসওয়াসাকে প্রশ্রয় দেবে না। নফসকে নয়, শরিয়তকে নিজের পথপ্রদর্শক বানাবে (তারবিয়াতুস সালেক)।

এস, এম হাবিবুল

4 COMMENTS

  1. I have been browsing online more than 4 hours today, yet I never found any interesting article like yours. It is pretty worth enough for me. In my opinion, if all web owners and bloggers made good content as you did, the net will be much more useful than ever before.

  2. A motivating discussion is worth comment. I believe that you should publish more about this topic, it may not be a taboo subject but typically folks don’t discuss such subjects. To the next! Kind regards!!

LEAVE A REPLY