আ.লীগ-বিএনপির প্রস্তাব ধরে ইসির পর্যালোচনা শুরু

0
33

দুই দলের ২২ সুপারিশের অধিকাংশই বিদ্যমান আইনের আলোকে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ইসি কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে পাওয়া সুপারিশ পর্যালোচনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) যেসব সংস্কার আনার সুপারিশ করেছে, প্রথম দফায় সেসব বিষয় নিয়ে বুধবার আলোচনা করেছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সদস্যরা।

সংলাপে পাওয়া সুপারিশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে ইসি কর্মকর্তাদের মনে হয়েছে, প্রধান দলগুলোর বেশিরভাগই আরপিও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখেনি। বিদ্যমান আইনে রয়েছে এমন অনেক বিষয় তারা সুপারিশ হিসাবে সংলাপে উপস্থাপন করেছে।

তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৫টি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পর্যালোচনায় ইসি দেখতে পেয়েছে, এর মধ্যে তিনটি বিষয় বিদ্যমান আইনেই রয়েছে।

ভোটের সময় নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগসহ আরপিওর বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ১৭টি সংস্কার চেয়েছে বিএনপি। এর অধিকাংশই বিদ্যমান আইনে রয়েছে এবং কিছু দাবি পরস্পরের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ বলে ইসি কর্মকর্তারা মনে করছেন। সেক্ষেত্রে আরপিও সংস্কার নিয়ে প্রধান দুই দলের অধিকাংশ প্রস্তাব আমলে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ, সেনা মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এই দুই প্রধান দলের অবস্থান বিপরীতমুখী। তবে অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল এবং আরপিও বাংলায় রূপান্তরের বিষয়ে দুই দল একমত।

ইসির আইন শাখার যুগ্ম সচিব মো. শাহজাহান বলেন, “সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে আমরা শুধু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করছি। আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধারাবাহিকতায় অন্য দলগুলোর সুপারিশ নিয়েও বসব। বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো কমিশনের কাছে তুলে ধরা হবে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, সংলাপে পাওয়া প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত- এই তিন ভাগে বিভক্ত করে পর্যালোচনা করা হবে।