আ.লীগের চরিত্র কখনোই ভালো ছিল না: ফখরুল

0
49

অনলাইন রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের চরিত্র কখনোই ভালো ছিল না। সেই সাথে মিথ্যা বলা আর গায়ের জোরে কথা বলা তাদের স্বভাব। ধর্ষণ, খুন, হত্যা, রাহাজানির সবকিছুই এখন নিত্যদিনের ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এর সবকিছুর নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবকিছু বাহবা নিতে চায়। এই সরকার সবসময় মিথ্যা কথা বলে। তারা বলে দেশের প্রবৃদ্ধির হার আওয়ামী লীগ বাড়িয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই তিনি দেশের প্রবৃদ্ধির হার সাত শতাংশের উপরে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর বাকিটা এখন করছে সরকার।’বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশ এখন সংকটময় অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের শেয়ার মার্কেট এখন পথে বসতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবস্থাও এখন শোচনীয় পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। দেশের সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। বেরোনোর কোনো উপায় নেই। সামনের সব বাধা বিপত্তি ঠেলে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। আমাদের ২২ জন মেয়রকে তাঁরা পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে দিচ্ছে না।’বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘নিজস্ব টাকায় বাংলাদেশে যতগুলো বাজেট হয়েছে এর সবগুলোর কৃতিত্ব এম সাইফুর রহমানের। তিনি সিলেট বিভাগের প্রায় সব জায়গাতেই উন্নয়ন করেছেন। যেখানে সিলেট যেতে আগে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগত সেখানে এখন মাত্র ছয় থেকে সাত ঘণ্টায় সিলেটে যাওয়া যায়।’দুলু আরও বলেন, ‘আমাদের সময় যমুনা সেতু বানাতে খরচ হয়েছিল চার হাজার কোটি টাকা। এরশাদ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সরকারি কোষাগার প্রায় শূন্য করে রেখেছিল। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দিতে হয়েছিল। তখন সাইফুর রহমান সাহেব তাঁর অসাধারণ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জাপান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তখন যমুনা সেতু বানাতে খরচ হয়েছিল চার হাজার কোটি টাকা। সেই চার হাজার কোটি টাকা আজ না হয় আট হাজার কোটি টাকা হলো। কিন্তু একই ধরণ, একই ক্ষমতা, দূরত্বের পদ্মা সেতু বানাতে কেন ২৭ হাজার কোটি টাকা লাগে। আবার সেই টাকা নাকি এখন বেড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গাউস, এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বশির ইকবাল প্রমুখ।