আশাশুনির বুধহাটায় ভারতীয়কে বাংলাদেশি বানিয়ে দলিল করে জমি দখল

0
124

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
আশাশুনির বুধহাটায় ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি সাজিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান আবম মোছাদ্দেক আলির বিরুদ্ধে। ওই পরিবারের সব জমিই এখন দখলের পাঁয়তারা করছেন তিনি। এমনকি দোকানঘরের ভাড়াটিয়াকে নতুন ভাড়া চুক্তিতেও বাধ্য করেছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তবে বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি কোনো জাল দলিল করিনি। ভারতে থাকা বিশ্বজিত বাংলাদেশে এসে এ জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে গেছেন। ওই জমির মধ্যে আমার কিছুটা রয়েছে। বাকিটা নিয়েছেন তাদের শরিক তপন দেবনাথ। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একথা জানিয়েছেন বুধহাটার ললিতা দেবনাথ ও তার ছেলে সরজিত দেবনাথ। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন ললিতা দেবনাথের সতীন রানী দেবনাথ ৩০ বছর আগে ছেলে বিশ্বজিত দেবনাথকে নিয়ে ভারতে বসবাস শুরু করেন। অথচ সেই বিশ্বজিতের অনুকূলে কাল্পনিক বিশ্বজিত সাজিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে তার কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান নিজে ও তার সহযোগী তপন দেবনাথ। সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রশ্ন রাখেন বাংলাদেশে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ৪০ বছরের একজন ভারতীয় নাগরিককে বর্তমান সময়ে জন্মনিবন্ধনভূক্ত করা সম্ভব। চেয়ারম্যান তার ক্ষমতাবলে সেই জালিয়াতিই করেছেন বলে দাবি করেন তারা।  ললিতা দেবনাথ বলেন তার স্বামীর প্রথম স্ত্রী রানী দেবনাথ স্বামী অজিত দেবনাথের কাছে প্রাপ্য অংশ আগেই বুঝে নিয়ে ভারতে চলে গেছেন। সেই থেকে এ সম্পত্তি তারা এককভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। তিনি জানান ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর তার স্বামী অজিত দেবনাথ মারা যান। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের লক্ষ্যে চেয়ারম্যান আবম মোছাদ্দেক ও তপন দেবনাথ কাল্পনিক ভারতীয় নাগরিক বিশ্বজিতের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট একটি জাল কোবালা দলিল সৃষ্টি কে রছেন। ভারতীয় নাগরিক সেই বিশ্বজিতের ওয়ারেশ সূত্র ধরে তিন একর নয় শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী তপন দেবনাথ। দীর্ঘকাল যাবত ভোগদখলে থাকা সেই জমি থেকে ললিতা ও তার ছেলে সরজিতকে সরে যাবার জন্য চেয়ারম্যান ও তার গুন্ডা বাহিনী চাপ দিয়ে আসছেন। তারা জানান ভুয়া রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে তিনটি দোকান, বসতবাড়ি ও বিলান জমি রয়েছে।  সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান তাদের দোকানের ভাড়াটিয়া নিত্য ঘোষ, কার্তিক সাধু ও প্রদীপ সাধুকে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা ধমক দিয়ে বলেছেন এখন থেকে দোকান ভাড়া তাকেই দিতে হবে। তাদেরকে নতুন ভাড়া চুক্তি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে পুলিশের আশ্রয় নিলেও চেয়ারম্যান কারও কথা গ্রাহ্য করছেন না। ললিতা দেবনাথ বলেন তার বিলান জমির একাংশ থেকে বর্গাচাষী জিয়াদকে সরিয়ে চেয়ারম্যানের প্ররোচনায় বর্গাচাষী সলেমান দখল করে নিয়েছেন। বুধহাটা বাজার গ্যারেজের কাছে থাকা একখন্ড জমি চাষ করতেন হাসেম আলি। তাকেও চেয়ারম্যান বলেছেন তার কাছ থেকে নতুন করে দলিল করে নিতে হবে। না হলে জমি ছেড়ে দাও।
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন আমি কোনো জালজালিয়াতি করিনি। অন্য যে কোনো দেশে থাকা কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে জমি হস্তান্তর করলে তা যদি আইনসিদ্ধ হয় তাহলে ভারতে থাকা বিশ্বজিত কেনো জমি লিখে দিতে পারবেনা বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।  ললিতা বলেন আমি বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক। আর আমার স্বামীর সম্পত্তি দখল করতে ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি নাগরিক বানিয়ে চেয়ারম্যান যে তঞ্চকতা ও জালজালিয়াতি করেছেন তার বিরুদ্ধে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। তার দাপটে আমি আমার স্বামীর বসত বাড়িতেও থাকতে পারছিনা ।