আশাশুনিতে সন্ত্রাসীদের মহড়া, চিংড়ি ঘেরে লুটপাট, এক ইউপি সদস্য সহ পাঁচজন জখম

0
436

মনিরুল ইসলাম মনি:

আদালতের নির্দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নোটিশ পেয়েও রোববার গভীর রাতে প্রতিপক্ষ ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গাবতলা এলাকায় ভাড়টিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। এর আগে রোববার সকালে তারা কালিপদ দাস ও নারায়ণ সরকারের মালিকানাধীন চিংড়ি ঘেরে হামলা চালিয়ে ঘেরের বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বাধা দেওয়ায় ঘের মালিক, এক ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন জখম হয়েছে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন, গাবতলা(বাঁশতলা) গ্রামের কালিপদ দাস, তার স্ত্রী ময়না দাস, ছেলে সন্দীপ দাস, নারায়ণ সরকার ও কাদাকাটি ইউপি সদস্য খেজুরডাঙা গ্রামের অনুকুল বাছাড় । অভিযোগ, ইউপি সদস্য উত্তম দাস বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিরোধীতাকারী নারায়ণ সরকার ও কালিপদ দাসকে জব্দ করতে আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ নির্যাতিতদের আদালতের আশ্রয় নিতে বলায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
গাবতলা গ্রামের কালিপদ দাস জানান, ২০০৩ সাল থেকে সুফলভোগী সমিতি ও ব্যক্তিগতভাবে,খোলপেটুয়া নদীর গাবতলা বেড়িবাঁধের পাশে সাড়ে সাত বিঘা জমিতে তিনি ও নারায়ণ সরকারসহ কয়েকজন পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ২০১৫-২০১৬ সালে নবায়ণের জন্য পাউবো’র হিসাব নম্বরে টাকা জমা দিয়ে ও চুক্তি সম্পাদক করেন তিনি ও তার সহযোগিরা। আদালতে জবাব না দিয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষ দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়র বিমল গায়েন ও সেকশান অফিসার  খায়রুল ইসলাম ওই জমি দেবব্রত সরকারসহ ১১ জনের দখল দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ৭ মার্চ ওই জমি ইজারা দেয়। জলা ও উপজেলা মৎস্যজীবী টেণ্ডার কমিটির সিদ্ধান্তে গত ১৬ মে উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সঙ্গে গাবতলা সুফলভোগী মৎস্যজীবী সমিতির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। যার কার্যক্রম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গত ৭ জুন স্থগিত করা হয়। প্রতিপক্ষরা যাতে ওই জমি জবরদখল না করতে পারে সেজন্য কালিপদ দাস বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারার মামলা(পিটিশশন- ৯৫৮/১৭) করেন।
আদালতের নির্দেশে উপপরিদর্শক আব্দুল হালীম উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ করেন। তিনি তার ও তার সহযাগিদের দখলীয় জমিতে আগামী ধার্য দিন পর্যন্ত না যাওয়ার জন্য সুফলভোগী সমিতির দলপতি দেবব্রত সরকার পক্ষদের নিষেধ করেন। এরপরও গত ১২ জুন সকাল ৯টার দিকে ইউপি সদস্য উত্তম দাসের নির্দেশে দেবব্রত সরকার, শ্রীকান্ত সানা, রাজ্যেশ্বর দাস, অনির্বান দাসসহ ১০/১২ জন লোক বাগদা , হরিণা, পায়রাসহ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এরপরও উত্তম দাসের নেতৃত্বে দেবব্রত সরকার , রাজ্যেশ্বর দাসসহ তাদের সহযোগিরা ওই ঘেরে ১৩ জুন সকালে মাছ লুটপাট ও ঘেরের বাসা ভাঙচুর করে। তারা গোলপাতা দিয়ে নতুন বাসা নির্মাণের চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ায় তাকে (কালিপদ) পিটিয়ে জখম করা হয়।
কাদাকাটি ইউপি সদস্য অনুকুল বাছাড় জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি গাবতলা বাজার হয়ে মশরকাটি খেয়াঘাটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি গাবতলা কালীমন্দিরের সামনে বেড়িবাঁধের পাশে কালিপদ দাসের দখলীয় জায়গায় নিতাই সরকারের ছেলে দেবব্রত সরকার, তার ভাই সুশান্ত সরকার, শ্রীকান্ত দাস, অনির্বান দাস, সুভাষ সানা, প্রভাস দাস, রাজ্যেশ্বর দাস, বাঁশতলার হারাধন সরদার, দীনবন্ধু সানাসহ গাবতলা সুফলভোগী মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা জোর পূর্বক ঘর বাঁধার চেষ্টা করছিলেন। পাশেই বসে নির্দেশনা দিচ্ছেলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য উত্তম দাস। কালিপদ দাস, তার স্ত্রী ময়না দাস, ছেলে সন্দীপ দাস ও নারায়ণ সরকার বাধা দেওয়ায় তাদেরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ঘেরের কাদার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় কালিপদ দাসের ঘেরের বাসা। এ সূযোগে কৌশলে কেটে পড়েন উত্তম দাস। তিনি এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় দেবব্রত সরকারসহ কয়েকজন তাকে মারপিট করেন। খবর পেয়ে দু’পক্ষের লোকজন ছুঁটে এলে বেড়িবাঁধের উপর সংঘর্ষের উপক্রম হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিক ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রাতে উত্তম দাসের নেতৃত্ব আট/নয় জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ঘেরের বাসায় যায়। সেখানে কালিপদ দাস ও নারায়ণ সরকারকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাদেরকে না পেয়ে গালিগালাজ করতেক করতে চলে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দেবব্রত সরকার জানান, কালিপদ দাস ডিসিআর বন্দোবস্ত করেছে ঠিকই কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদেরকে স্বস্তিতে ঘের করতে দেওয়া হবে। যে কোন মূল্যে দখলে নেওয়া হবে বলে জানান তারা।
জানতে চাইলে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম শাহীন বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ নিয়ে কোন পক্ষই তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি।