আশাশুনিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন ॥ কৃষকদের মুখে হাসির ঝলক

0
117

আশাশুনি প্রতিনিধি:

আশাশুনি উপজেলায় চলতি বোরা মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক বইতে শুরু করেছে। কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত ঘটনার উদ্ভব না ঘটলে উপজেলায় ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ধারনা করা হচ্ছে।
গত বছর আশাশুনি উপজেলার উপশী জাতের ধান চাষ হয়েছিল ৪০৫০ হেক্টর এবং হাইব্রিড ২২৫০ হে. মোট ৬৩০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। এ বছর কৃষি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা নিদ্ধারণ করেছিল উপশী ৩৯১৫ হেক্টর ও হাইব্রিড ২৬৬৫ হেক্টর মোট ৬৫৮০ হেক্টর জমিতে। সেখানে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও আবাদ হয়েছে গত বছরের তুলনায় ১২০ হেক্টর বেশী জমিতে। অর্থাৎ উপশী ৪০৭০ হেক্টর ও হাইব্রিড ২৩৫০ হেক্টর মোট ৬৪২০ হেক্টর জমিতে। ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল উপশী পার হেক্টরে ৩.৮৬ মেঃটন হিসাবে ১৫১১২ মেঃটন এবং হাইব্রিড পারহেক্টরে ৪.৭৫ মেঃটন হিসাবে ১২৬৫৯ মেঃটন। মোট ২৭৭৭১ মেঃটন। সেখানে ফসল কর্তন শুরু হওয়ায় প্রাথমিক হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে (ইনশাল্লাহ) উপশী ৪.০০ মেঃটন হিসাবে ১৬২৮০ মেঃটন এবং হাইব্রিড ৪.৮ মেঃটন হিসাবে ১১২৮০ মেঃটন ধান উৎপাদিত হতে পরে। যা বিগত যে কোন বছরের তুলনায় অনেক বেশী। বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে উপজেলার কাদাকাটি ও দরগাহপুর ইউনিয়নে ব্লাষ্ট আক্রমন দেখা দেওয়ার পর কৃষি বিভাগ কর্তৃক হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে দ্রুত কৃষকদের হাতে পৌছে দেওয়া, মসজিদ ও বাজারে রোগ থেকে রক্ষা পেতে এবং তাৎক্ষনিক করনীয়তা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে রাখার ব্যবস্থা করে রোগের আক্রম দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ফলে ভয়াবহতার হাত থেকে কৃষকরা রেহাই পেয়েছিল। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শামিউর রহমান জানান, ঝড়ো বাতাস, দিনে গরম রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করায় ব্লাস্ট রোগের সংক্রমন ঘটে থাকে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মত হ্যা-বিল প্রকাশ ও প্রচার, মসজিদ-মন্দিরে এ সংক্রান্ত তথ্য ঘোষণা করা, দলীয় মিটিং ও বাজার-দোকানে মতবিনিময়ের মাধ্যমে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করে ব্লাষ্ট দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়। ফলে ব্লাস্ট আক্রমন বাড়তে পারেনি এবং আক্রমন এলাকার ক্ষতি নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজ করা হয়েছে। আগামীতে যাতে ব্লাস্ট আক্রমন না হয় সেজন্য আক্রান্ত জমির নাড়া পুড়িয়ে দেওয়া, আক্রান্ত ও তার পাশের জমির বীজ সংরক্ষন না করা, বীজ শোধন করে (ছত্রাক নাশক ব্যবহার) পরবর্তীতে বীজ ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নানান প্রতিকুলতার মধ্যেও আশাশুনিতে বোরো ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। এজন্য আমরা হাইব্রিড আবাদ বৃদ্ধি, ১০০% উপশী জাতের ব্যবহার, সুষম সার ব্যবহার, লাইন-লোগো, পার্চিং এবং গুটি ইউরিয়ার ব্যবহার করতে কাজ করেছি। এছাড়া অতন্ত্র জরীপ, আলোর ফাঁদ ব্যবহার, সুইপিং নেট ব্যবহার, কৃষক উদ্বুদ্ধ করণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। সর্বোপরি কৃষি বান্ধব সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে আজকে আমরা বোরো আবাদে সফলতার হাসি দেখতে যাচ্ছি।

জি এম মুজিবুর রহমান