আশাশুনিতে জমি দখলের অপচেষ্টা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0
84

ডেস্ক রিপোর্ট :
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জাল দলিল সৃষ্টি করে জমি দখলের অপচেষ্টা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধা। বৃহস্পতিবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার এ.কে.এম শামসুল হুদা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৪ আগস্ট উপজেলার তুয়ারডাঙ্গা গ্রামের মৃত তফিল উদ্দিন মোল্যার ছেলে রজব আলী মোল্যা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে।
ওইদিন রজব আলী মোল্যা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উপজেলার ফকরাবাদ মৌজার জেএল ৯৮ ডি.এস ২০৩, ২১৫ ও ২১৬ খতিয়ানের ৯২৩, ৯২৪, ৯৩২, ৯৩১, ৯২৫,৯২৮, ৯৩০ দাগে ২৯ একর জমি কট কোবালা মূলে তার পিতার নামে ক্রয় করেছেন। অথচ ২০০৯ সালে উক্ত সম্পত্তি রেকর্ড সংশোধন ও স্বত্ব প্রচারের জন্য সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি স্থানান্তরিত হয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত সাতক্ষীরাতে দেওয়ানী ১৬/২০১৩ নং মামলায় রূপান্তরিত হয়। সেখানে বিজ্ঞ বিচারক বালাম বইয়ের সাথে তুলনা করে রজব আলীর দাখিলকৃত ২৭৫৪ ও ২৫৪৩ নং কট কবলা দলিল ২টির প্রকৃতি আলাদা, দাতা- গ্রহীতা আলাদা এবং জমির পরিচয় ও ভিন্ন উল্লেখ করে কট কোবলা দলিল ২টি অস্তিত্বহীন এবং জাল বলে ঘোষণা করেন। এই কারণে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস ২০/১০/১৩ তারিখে রজব আলীর দাখিলকৃত মোকদ্দমার আরজি বাতিল করেন। সেই সাথে তার দাখিলকৃত ২১/৫/১৪ তারিখের ২৭৫৪ ও ২৫৪৩ নং কট কবলা দলিল ২টি জাল মর্মে সিদ্ধান্ত দিয়ে কোট হেফাজতে রাখার জন্যও নির্দেশ দেন।
ওই জমি ফেরত পাওয়ার জন্য এ.কে.এম শামসুল হুদা খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে রিভিউ আবেদন করেন। যার মিস মামলা নং ১৬৩/২০১৫। খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার শাহ আলম সরদার রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে উভয় পক্ষের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য শুনেন। এরই মধ্যে রজব আলী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি জনাব মোস্তফা জামান ইসলামের বেঞ্চে ৭৪৩/২০১৫ নং রীট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট গত ০১/৪/২০১৫ তারিখে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়। একই বিষয়ে সে হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে ৮২৪৭/২০১৫ নং রীট পিটিশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে রজব আলী আবারও হাইকোর্টে ১৩৫৮২ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। যা দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ ধারার বিধান মতে দোবারা দোষে অভিযুক্ত মর্মে প্রতীয়মান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সকল বৈধ কাগজপত্র ও রায় এ.কে.এম শামসুল হুদার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও জাল দলিল সৃষ্টিকারী রজব আলী মোল্যা, হাফিজুর রহমান, আহাদ মোল্যা ও নূরুল আমিন মোল্যা পরস্পর যোগসাজশে তাকে সর্বশান্ত করার পায়তারা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ও জাল দলিল সৃষ্টি কারী রজব আলীর শাস্তির দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

LEAVE A REPLY