আশাশুনিতে খেজুর গাছ উঠানোর কাজে ব্যস্থ গাছিরা

4
80

নিজস্ব প্রতিনিধি :
শীতের শুরু থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনির গাছিরা। শীত শুরুর সাথে সাথে গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করে রস আহরণ শুরু করেছে। রস আহরণের জন্য প্রথমে হাতে দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাছা-ছেলা করে। পরে ছেলা স্থানে নল বসানো হয়। সেই নল বেয়ে নেমে আসে সুস্বাদু খেজুর রস। কাকডাকা ভোর থেকে সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে দুপুর পর্যন্ত রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। কেউ কেউ আবার গুড় থেকে পাটালি তৈরি করে বিক্রি করে। আবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রস সংগ্রহের জন্য গাছে গাছে কলস বাঁধা। এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা। আশাশুনিতে এমন গাছির সংখ্যা প্রায় শতাধিক। কোন কোন গাছি রস বিক্রি করে দেয়। অনেকে রস কিনে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করে। এই শীতের মৌসুমে রস ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করে এমন সংখ্যা ও অনেক। রস আর রসের তৈরি পিঠা উৎসব চলবে পুরো শীত জুড়ে। খেজুরের রস দিয়ে নানান রকম পিঠা তৈরি করা হয়। ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, পাঠিসাপটা, রস পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে গেছে খেজুর গাছের রস আর গুড় দিয়ে। ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবে রস ও রস থেকে তৈরি গুড়, পাটালি দিয়ে তৈরি হবে সুস্বাদু খাবার। ইদানিং ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছে পোড়ানোর কারণে গাছ কমে যাচ্ছে।  খেজুর গাছ ৫-৬ বছরের হলেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করা যায়। দোআঁশ ও পলি মাটিতে জন্মানো গাছে বেশি রস হয়। কার্তিক মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত রস আহরণ করা হয়। তবে যত শীত বেশি পড়ে তত রস বেশি হয়। সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের গাছি আবু বক্কর জানান, খেজুরের রস পেতে হলে বেশ কিছু কাজ করতে হয়। গাছের উপরিভাগের নরম অংশকে কেটে সেখানে বসিয়ে দেয়া হয় বাঁশের তৈরি নালা। আবার পাখিরা যাতে রস না খেতে পারে আর কোনো জীবাণু না ছড়াতে পারে, সেজন্য আবার জাল বিছাতে হয়। গাছের কাটা অংশ থেকে চুইয়ে-চুইয়ে রস এনে নল দিয়ে ফোটায় ফোটায় জমা হয় ঠিলেতে। একবার গাছ কাটার পর ২-৩ দিন রস পাওয়া যায়। রসের জন্য গাছ একবার কাটার পর ৫-৬ দিন বিশ্রাম দেয়া হয়। রোদে কাটা অংশ শুকিয়ে গেলে আবার ওই অংশ চেছে রস সংগ্রহ করা হয়। আর এ কারণেই সাধারণত খেজুর গাছ পূর্ব ও পশ্চিম দিকে কাটা হয়, যাতে সূর্যের আলো সরাসরি ওই কাটা অংশে পড়ে। কাদাকাটি গ্রামের গাছি হযরত আলী জানান, গাছ থেকে রস সংগ্রহের সময় মৌমাছির কামড় সইতে হয়। রস বিক্রির টাকা যখন ঘরে তুলি তখন মৌমাছির কামড়ের কথা ভুলে যাই।

মোঃ নুর আলম/একে/আই।

4 COMMENTS

  1. Hi! I just would like to give you a big thumbs up for
    your great information you have right here on this post.
    I am coming back to your web site for more soon.

LEAVE A REPLY