আশাশুনিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মান কাজ চলছে চরম অনিয়মে

0
154

জি এম মুজিবুর রহমানঃ

আশাশুনিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মানের কাজ চলছে নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজ করা হলেও তা দেখার জন্য কেউ সেখানে থাকেননা। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সরকারি কাজ কি বানের জলে ভেসে যাবে?
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ও বুধহাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ীতে একটি মোট ৩টির কাজ সরকারি অর্থ বরাদ্দে করা হচ্ছে। সীমানা প্রচীর নির্মানের জন্য ঠিকাদার ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু করেন। কাজ সঠিক ভাবে করার জন্য তদারকি ও দেকভাল করার দায়িত্বে আছেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু না তারা কাজ দেখতে আসেন না। ঠিকাদার জাহিদ হাসান কাজের দায়িত্ব পেলেও তিনিও কাজ দেখেন না। দেখেননা বললে কম হবে, বরং তিনি কাজটি শ্রমিক সর্দার রবিউল ইসলামের কাছে ফুরোন করে দিয়ে দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়েছেন। তাই সর্দার রবিউল তার নিজের ইচ্ছেমত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল-দুপুর-বিকাল-রাত বলে তার কাছে কোন বাচবিচার নেই। সর্বক্ষণ তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজে রড, সিমেন্ট, বালি ও খোয়া সঠিক ভাবে দেওয়া হচ্ছে কিনা, মিকচার কেমন হচ্ছে, কত নম্বর ইটের ব্যবহার হচ্ছে? এসব ভাববার সময় নেই তাদের। কেননা, ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার বা স্থানীয় পর্যায়ের কেউ এসব দেখতে আসেন না। ফলে নির্মাণ কাজ চলছে হাওয়ার উপর- এমন উক্তি স্থানীয় সচেতন মহলের। এব্যাপারে কাজের সর্দার রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ৩টি কাজের শ্রমবাবদ ৮ লক্ষ টাকা চুক্তিতে কাজ করাচ্ছেন। কুল্যা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের গ্রেড বীমের কাজ ৫৬০ ফুট, পিলার ৬৪টির কাজ করানো হচ্ছে। উপরে কপিন ঢালাই হবে ৩ ইঞ্চি। তারা দিনরাত কাজ করাচ্ছে। মাঝে মধ্যে ঠিকাদার বা ইঞ্জিনিয়ার কাজ দেখতে আসেন বলে তিনি দাবী করেন। এই প্রতিবেদকসহ কয়েকজন সাংবাদিক স্থানীয় জনসাধারণকে নিয়ে সেখানে পরপর তিনদিন যেয়ে ইঞ্জিনিয়ার না থাকা অবস্থায় ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে  শ্রমিকরা জানান, ইঞ্জিনিয়ার আসেননা, ঠিকাদার মাঝে মধ্যে আসেন। ঠিকাদার জাহিদ হাসানকে মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন, কাজ ফুরোন করে দিয়েছি, আমার সেখানে থাকার দরকার নেই। ঠিকাদার কাজের স্থানে থাকার নিয়ম আছে নাকি বলে তিনি নিজেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা খুলনার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন জানান, আজ (শনিবার) ঢালাই কাজ হচ্ছে এটি তার জানানেই। তবে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় কাজটি সাতক্ষীরার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান দেখছেন এবং বিস্তারিত তথ্য তিনি দিতে পারবেন বলে জানান। তবে তাদের অনুপস্থিতিতে ঢালাইয়ের কাজ করার কথা নয় বলে তিনি স্বীকার করেন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমানের মোবাইলে (০১৭১১-০৭৪১৯৩) নম্বরে অসংখ্যবার রিং করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এলাকাবাসী জানান, কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে, শ্রমিকরা ইচ্ছেমত মালামাল ব্যবহার করে দিবারাত্র কাজ করছে। এভাবে কাজ করা হলে এক বছরও কাজ টিকে থাকবে না। এব্যাপারে যথাযথ তদন্ত পূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।