আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক

0
85

বরুণ ব্যানার্জী:

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপড়েন বা উভয় দেশের সম্পর্ক যে উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়টি নতুন নয়। ভারত অধ্যুষিত কাশ্মীরের উরি সেক্টরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার ভোরে সেনাবাহিনীর ব্রিগেড সেক্টরে কাশ্মীর জঙ্গিদের গেরিলা হামলায় ১৮ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়। তেমনিভাবে আত্মঘাতী চার কাশ্মীরি জঙ্গিও ভারতীয় সৈন্যদের গুলিতে নিহত হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯৯৯ সালে পাক-ভারত সীমান্তে কারগিলে যুদ্ধ হয়। যা পাক-ভারতের কারগিল যুদ্ধ বলে পরিচিত। এ পর্যন্ত ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ পর্যন্ত কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে চারবার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুদেশই তাদের নিজ নিজ সীমান্তে সামরিক সজ্জা ও শক্তি দুই-ই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে সমগ্র উপমহাদেশীয় জনগণের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দেয় যে আর একটি যুদ্ধ কি সমাসন্ন? এই উদ্বেগের প্রধান কারণ, দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। যুদ্ধে কার জয় হবে তা নিশ্চিত হওয়ার চেয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে কোনো পক্ষই কি জয়ী হবে? যুদ্ধে জয়পরাজয় যাই হোক না কেন মানুষ ও সম্পদের ক্ষতি হয় সব পক্ষের। এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়া যে অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়ার প্রয়াস নিয়েছে তার অগ্রগতি এবং দারিদ্র্যবিরোধী লড়াইয়ের যৌথ উদ্যোগের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে। তাই আমরা আশা করি ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধংদেহি মনোভাব পরিত্যাগ করবে এবং উত্তেজনা শিগগিরই তিরোহিত হয়ে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকেই অনুসরণ করবে। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।