আর কত আফরোজার মৃত্যু হলে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে?

0
383

বরুণ ব্যানার্জী:

‘বিচারের বাণী-নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’ কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের সেই উক্তিটা বারংবার হৃদয়পটে নাড়া দিচ্ছে, বাঙ্গালি হয়েই রইলাম কিন্তু মানুষ হলাম না। আজ সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব কিন্তু সভ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব যখন মানুষের সম্মান রক্ষা করা তখন সম্মান রক্ষা করার বদলে পাল্টা আপত্তিকর অভিযোগ এনে শুক্রবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী মাগুরা এলাকার পলাশ ও আফরোজা খাতুনকে এক সাথে  দড়ি দিয়ে বেঁধে তরুণীকে বাজার ঘোরানোসহ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মারপিট করে নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে শালিশী বৈঠকের নামে তাদের দুজনকে কান ধরে উটবস ও মারধোরসহ একসাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাজারে ঘোরায়। এসব মোবাইলে ধারণ করে পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধন দাশের ছেলে জয়দেব কুমার দাশ(২২) ফেসবুকেও  ছবি ও ফুটেজ আপলোড করে দেয়। এই অসম্মান সইতে না পেরে শনিবার দুপুরে গলায় রশি পেচিয়ে আত্নহত্যা করেছেন তরুণী আফরোজা খাতুন(১৬)। এ ঘটনায় তরুণীর ভাই ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন –  হাসান, হাফিজুল, ইসমাইল, হাকিম, ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ও পলাশ। রাতে মামলার প্রধান আসামী সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, চৌকিদার ইসমাইল হোসেন ও ভিডিও ধারণকারী জয়দেব কুমার দাশকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। অন্যদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামকে নির্দোষ দাবি করে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে তালা-কলারোয়া সংসদ সদস্য অ্যাড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনসহ উপজেলা আ.লীগের নেতৃবৃন্দ। আর কোনো অগ্রাহায়ণে দেখা মিলবে না তার। ফাগুনের মৌ জোৎস্না মাখবে না আর কোনোদিন। পৃথিবী উল্টে গেলেও না। সে এখন দূর অজানায় ভেসে বেড়ানো একলা পাখি। যে পাখিকে ক্ষতবিক্ষত করে চিরবিদায় দিয়েছে এই সমাজের কিছু কুলাঙ্গার। এই সমাজের কিছু বিপদগামী মানুষ।  মানুষ নামের নরপশুরা! সমাজে মানুষের সঙ্গেই বসবাস করা মানুষরূপী জানোয়ার, তারাই। সুযোগ পেলেই হামলে পড়ে সেই পুরোনো কায়দায়! ওদিকে বিচারের বাণী কাঁদে নিভৃতে। সে কান্না শোনার লোক যেন এই সাতক্ষীরার মাটিতে নেই ! এ অপরাধের লাগাম যেন টানা যাচ্ছে না কিছুতেই। টানছে না কেউ। সবাই যেন নীরব দর্শক।  সময় থাকতে আওয়াজ তুলুন। বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন। এ রাষ্ট্র আমাদের এমনি এমনি কিছু দেবে না। আদায় করে নিতে হবে। পেটের ভাত থেকে আইনের বিচার, সবই নিতে হবে আদায় করে। গভীর হতাশার মাঝেও আমরা দেখতে চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো পিতার সন্তান যেন এভাবে প্রচারণাকারীদের দ্বারা হত্যার শিকার না হয়। রাষ্ট্রের কানে তাঁদের এই আকুতি ও কান্না পৌঁছাবে কি?