আরবের মাটিতে আরবি হীরের ঝলকে সেজে উঠবে দুর্গামূর্তি

0
141

প্রতিবেশী ডেস্ক:

কুমোরটুলির মহিলা শিল্পীর হাত ধরে দুর্গা পাড়ি দিচ্ছেন আরব ভূমিতে৷ প্রত্যেক বছরই কুমোরটুলি থেকে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা , নেদারল্যান্ডে পাড়ি দেয় শিল্পীদের তৈরি দুর্গা। তা নিয়ে খবরের পাতা ভরা থেকে ক্যামেরার খচ খচ কম থাকে না। কিন্তু আরব ভূমিতে দুর্গার যাত্রা এই প্রথম। তবে শারদোৎসবের আঙ্গিকে নয়, দুর্গার এই যাত্রা হ্যান্ডিক্রাফট গয়নার আকারে।

কলকাতা থেকে দুর্গা পাড়ি দিচ্ছেন সংযুক্ত আরব আমির শাহীর অন্যতম শাহী দুবাইতে৷ মিনিয়েচার গহনার আকারে দেবীর দুবাই যাত্রা এই প্রথম৷ সেখানকার কারিগরদের ছোঁয়ায় সেই মূর্তি আরও জৌলুস পাবে।

আরব মানে আলাদীনের গল্প৷ সেখানে দুর্গার সিংহবিক্রমে অসুর দমনের কাহিনী জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে কুমোরটুলির মহিলা শিল্পী মালা পালের হাত ধরে সেই কাহিনীই এবার ঢুকে পড়ছে আরব ভূমিতে৷ মরুভূমির আর উটের দেশে প্রসারিত হচ্ছে বাংলার সংস্কৃতি , শিল্প।

শিল্পী মালা পাল জানিয়েছেন, মাটির গয়নাতে থাকছে দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশের আঁকা ছবি । কখনও থাকছে দেব দেবীর মাটির প্রতিকৃতি। সেটাই পছন্দ হয়েছে দুবাইয়ের হ্যান্ডিক্রাফট বিজনেস পার্সনদের।

শিল্পী জানিয়েছেন, “ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ দুবাই থেকে ৫-৬ জনের দল সোজাসুজি আমার স্টুডিয়োতে চলে আসেন। ওঁরা এখানে মাটির মডেল কিনতে এসেছিল। দেখে আমি গয়নাতে দুর্গা , সরস্বতীর মাটির কাজ করছি।” এটাই অন্যরকম লেগেছিল ব্যবসায়ীদের। মালাদেবীর থেকে তখনই ১০টি এরকম গয়না নেওয়ার কথা জানিয়ে দেন তাঁরা। শিল্পী জানিয়েছেন, “ওঁরা এগুলোর উপর হিরে কেটে বসিয়ে বিক্রি করবে বলে।” ইতিমধ্যেই এরকম প্রায় ৩০টি দুর্গা গয়না পাড়ি দিয়েছে দুবাইতে।

মূলত এই পুজোর সময়টাতেই এই স্পেশাল দুর্গা গয়না বানান মালা পালা। অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর তৈরি এই নতুন ধরনের গয়না। শিল্পীর কথায়, “এমনিতে সারা বছর গয়নার সঙ্গে বাউল, মেয়ের ছবি বা প্রতিকৃতি তৈরি করি। কিন্তু এই সময়টায় দুর্গার চাহিদাটা ভালোই থাকে। তাই এই সময়টাতেই স্পেশাল গয়না বানাই।” একটি ডিজাইনার দুল বা হারের দাম শুরু ১৫০ টাকা থেকে। তবে খাটনির অনুযায়ী বাড়ে গয়নার দাম।

পরিবারের রক্তে রয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। তাই সব সময় ইচ্ছা ছিল বাবা , দাদার মতো মূর্তি বানানোর। কিন্তু মাঝবয়সী শিল্পী যখন পারিবারিক ব্যবসাকে আপন করবেন ভাবছিলেন তখন মহিলাদের এসব কাজ করতে দেওয়াই হত না। মালাদেবী জানিয়েছেন, “ বাবার পাশে বসেই কাজ করতে বসে যেতাম। বাবা মারা যাওয়ার পরেই পরিবারে বিশাল চাপ আসতে শুরু করে। তখন দাদার সঙ্গে কাজ করতে শুরু করি। পাশাপাশি বানাতে শুরু করি মাটির গয়নাও।” তারপর থেকে শিল্পী কাজ দেশে বিদেশে বহুবার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

কিন্তু এসবের মাঝেও থেকে যাচ্ছে সেই পুরনো চিন্তাটা। যে কাজটা করছেন তিনি পরবর্তী প্রজন্ম সেটা করতে চাইবে তো ? শিল্পী স্পষ্ট জানালেন, “আমার ছেলে মেয়েরা চায় না এই কাজ করতে।” পরিবারের জন্য খাটতে গিয়ে সময় দিতে পারেননি সন্তানদের। সেই ভয়টাই কাজ করে তাদের মধ্যে। তবে অনেক বেশ কিছু কুমোরটুলির মেয়েরাই তাঁর কাছে আসেন তাঁর কাছে কাজ শিখতে। মালাদেবীর থেকে কাজ শিখে তাঁরাও স্বনির্ভর হয়ে কাজ করছেন। শিল্পীর আশা, রক্তের সম্পর্কে না হোক অন্য রক্তের কেউ তাঁর শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।