আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

0
103
মোঃ নাঈম আহম্মেদ তুহিন :
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় আর  তেমন একটা চোখে পড়ে না কাঠের তৈরি ঢেঁকি, তাছাড়া আর ঢেঁকিতে আটাও কোটে না কেউ। গ্রাম গঞ্জের বাড়ীগুলোয় আগের মত আর আটাও কুটতে দেখা যায় না। আধুনিক যুগে এখন গৃহবধূরা ঢেঁকির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মেশিন (মোটরে) আটা কুটার কাজ সেরে ফেলে এক সময় আশাশুনি উপজেলার গ্রাম গঞ্জের পাড়া মহল্লা গুলোর গৃহবধূরা বিভিন্ন তিথিতে কাঠের ঢেঁকি দিয়ে আটা তৈরি করত বর্তমানে আধুনিক যুগে গৃহবধূদের আটা কোটার কৌশল পরিবর্তন হয়েছে। এখন তারা কাঠের তৈরি ঢেঁকির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে আটা তৈরির কাজ সেরে ফেলে। এক সময় গৃহবধূরা সকালে রান্নার কাজ সেরে পরিবারের স্বামী সন্তানদের খাওয়ানোর পর কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে গভীর রাত পর্যন্ত আটা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। সেই সময় আটা তৈরিতে ২-৩ জন গৃহবধূ নানা ধরনের আঞ্চলিক গীতি গানে মেতে থাকত। এভাবে কাজের মধ্যে গৃহবধূরা বিনোদনের মেতে উঠতো। তারা এভাবে কাজের মধ্যে বিনোদনে মেতে থাকায় তাদের শারীরিক পরিশ্রম কখন বুঝে উঠতে পারত না। এক সময় গ্রাম গঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে তাদের কাঠের ঢেঁকি দিয়ে আটা কোটার প্রচলন থাকলেও আজ সেই বাড়ী গুলোতে কাঠের ঢেঁকি চোখে পড়ে না। এখন প্রতিটি গ্রামে ২/১টি করে কাঠের ঢেঁকি থাকলেও তার ব্যবহার খুব কম হচ্ছে।

শুক্রবার  সরজমিন উপজেলার কুল্যা গ্রামে  গিয়ে ওই গ্রামের সম্বন্ত এক মুসলিম পরিবারে বাড়ীতে কাঠের ঢেঁকি চোখে পড়ে। ওই বাড়ীর এক গৃহবধূ জানায় তাদের ঢেঁকি থেকে গ্রামের মহিলারা মাঝে মাধে আটা তৈরিতে ব্যবহার করে। বিশেষ করে শবেবরাত কাঠের ঢেঁকি ব্যবহার করে আটা তৈরি করার ভিড় পড়ে যায়। সেই আটা দিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা। আজও ওই ধরনের অভিজাত শ্রেণির লোকজনের বাড়ীতে রাখা হয়েছে কাঠের তৈরি ঢেঁকি।

এছাড়াও আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামের আব্দুল গফুর ও  মাও: ইলিয়াসেট বাড়ীতে কাঠের তৈরি ঢেঁকি  দেখা গেছে। ওই দুই বাড়ীর লোকজন জানায় শীত মৌসুমে তাদের পাড়া ও গ্রামের গৃহবধুরা পিঠা কুলি তৈরী করার জন্য তাদের বাড়ীতে আটা কুটার জন্য আসে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাড়া প্রতিবেশীরা পর্যায় ক্রমে আটা তৈরী করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন গৃহবধু জানায় ঢেকিতে কোটা আটায় পিঠা ভাল হয়। আধুনিক যুগে মেশিনের তৈরী আটার পিঠা ভাল হয় না।