আজ ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস, অর্জিত হয়নি স্বাধীনতার স্বপ্ন

0
381

 

বরুণ ব্যানার্জী:

পাক হানাদার ও তাদের দোসররা সেদিন মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছিল। ধ্বংস করতে চেয়েছিল বাঙ্গালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে। শত্রুর বুলেটের এত সব আঘাত সহ্য করেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সাতক্ষীরার বীর সন্তানরা অন্তত ৫০টি ছোট-বড় যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করে। বীরের বেশে এই মাটির সন্তানরা বাংলাদেশের অর্জিত পতাকা কাধে নিয়ে সাতক্ষীরায় এসেছিল,  চুমু খেয়েছিল নিজের  দেশের মাটিতে। এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সাতক্ষীরা শহরে ঢোকে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনার আনন্দে স্বজন ও সন্তান হারানোর বেদনা ভুলে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিপাগল আপামর জনতা। সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের খরচ বহনের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা ও অলংকার লুট এবং অস্ত্র লুটের দিয়ে শুরু মুক্তি সংগ্রাম। আর পাকসেনাদের অত্যন্ত কড়া বেষ্টনী ভেদ করে মুক্তিপাগল বীর মুক্তিসেনারা ডিনামাইট চার্জ করে ‘পাওয়ার হাউস’ উড়িয়ে দেয়। সাতক্ষীরা শহরকে তারা পরিনত করে ভুতুড়ে শহরে। শহরের প্রানকেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সফল অভিযানে পাক সেনারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। রাতের আঁধারে বেড়ে যায় গুপ্ত হামলা। পিছু হটতে শুরু করে হানাদাররা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল,কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে  প্রত্যুষে রাজাকার আলবদর বাহিনী তাদের অস্ত্র ও মালামাল ফেলে প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানি বাহিনী স্ব স্ব ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যায়। অবশেষে ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তির নেশায় উন্মত্ত দামাল ছেলেরা এদিন সাতক্ষীরার মাটিতে প্রথম স্বাধীনতার বিজয় পতাকা উড়ায়। বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জয়ের নিশান উত্তোলনের সাথে সাথে ফাঁকা গুলির আওয়াজ আর আনন্দ- উল্লাসে মুখরিত হয় কোর্ট প্রাঙ্গন (বর্তমানে পুরাতন জজ কোর্ট)। জয় বাংলা; জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে তারা মুখরিত করে তোলে গোটা সাতক্ষীরা। তাই, আসুন আজ সাতক্ষীরা মুক্ত দিবসে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিজ্ঞা করি যেকোন মূল্যে, জীবন দিয়ে হলেও আমারা আমাদের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখবোই। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো  স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও সাতক্ষীরার মুক্তিযোদ্ধারা পুড়ছেন ক্ষোভের অনলে। এত বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার বধ্যভূমি গণকবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অযত্নে আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে বধ্যভূমি ও গণকবরের স্মৃতিচিহ্ন। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। তাই বধ্যভূমি ও গণকবরের স্মৃতি ধরে রাখতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সচেতন মহলসহ মুক্তিযোদ্ধারা ।