আজকের তারাবিতে ইসলাম গ্রহণের আকাঙ্ক্ষার বিষয় পাঠ করা হবে

0
132

অনলাইন ডেস্কঃ

পবিত্র রমজানের ১১তম তারাবি অনুষ্ঠিত হবে আজ। আজকের তারাবিতে সুরা হিজর ও সুরা নহল পড়া হবে। সুরা দুটি মক্কায় অবতীর্ণ। তাওহিদের বিশেষ আলোচনা রয়েছে সুরা দুটিতে। আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামাতের বর্ণনাও রয়েছে এ সুরায়।

অবিশ্বাসীদের ইসলাম গ্রহণের আকাঙ্ক্ষার কথা এসেছে সুরা হিজরের ২নং আয়াতে। এ সুরা দুটি পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে ১৪তম পারার সমাপ্তি ঘটবে আজকে। ১৪তম পারায় যে সব আলোচনা আসবে সংক্ষেপে তা তুলে ধরা হলো-

সুরা হিজর
আয়াত ০২-৯৯
হিজর একটি স্থানের নাম। যা সিরিয়া ও মদিনার মর্য্তবর্তী অঞ্চল। এ স্থানের অধিবাসীরা আল্লাহর নাফরমানির কারণে তাঁর কোপাগ্রস্থ হয়েছিল। এ সুরায় নাফরমানদের ধ্বংসের বিবরণ বর্ণনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা বিশ্বনবির রিসালাতকে অস্বীকার করেছে, তাদের মন্দ আচরণ ও অশুভ পরিণামও আলোচিত হয়েছে এ সুরায়। যাতে রয়েছে মুমিনের জন্য শিক্ষা। কেননা পরকালের ভয়াবহ দিনে আল্লাহ তাআলা নাফরমানদের সকল কাজের চুল ছেঁড়া হিসাব নিবেন। তাছাড়া আরো যা আলোচিত হয়েছে-

ইসলাম বিদ্বেষীদের মনোভাব, ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতি আল্লাহর হুশিয়ারি, মানবজাতির উত্থান-পতনের ইতিবৃত্ত, শয়তানের ধোঁকার আলোচনা করা হবে আজ।
এ সুরায় কাওমে লুতের চারিত্রিক বিকৃতি ও ধ্বংসের ঘটনা গুরুত্ব পেয়েছে, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য হুশিয়ারি ও শিক্ষণীয় ঘটনা। কাফির অবিশ্বাসীদের তোয়াক্কা না করে ইসলামের ঘোষণা প্রকাশ্যে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে এ সুরায়।

সুরা নাহল
আয়াত ০১-১২৮
সুরা নাহলও মক্কায় অবতীর্ণ। এর প্রেক্ষাপট ব্যাপক এবং সুপ্রশস্ত। বিশেষ করে এ সুরায় এত বেশি নিয়ামাতের কথা এসেছে, যার কারণে এ সুরাটি সুরাতুন নিয়াম নামেও পরিচিত। এ সুরায় আল্লাহর গুণ-বৈশিষ্ট্য, বিশ্বনবির প্রতি ওহি ও পরকাল- এ তিনটি বিষয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে। এ তিনটি বিষয়ের সঙ্গে আরো কিছু বিষয় ওঠে এসেছে যা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিলকৃত বিধানের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনাকারী তাওহিদ, ঈমান, কুফরি, হিদায়াত ও গোমরাহী সংক্রান্ত মানবীয় ইচ্ছা ও আল্লাহর ফয়সালার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দায়িত্ব ও বিশ্বনবিকে প্রত্যাখ্যানকারীদের ব্যাপারে আল্লাহর নীতি আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।

হালালকে হারাম করা ও হারামকে হালাল করা- এ বিষয়ে পৌত্তলিকদের ধ্যান-ধারণার আলোচনা ও আল্লাহর পথে হিজরত, মুসলমানদেরকে নির্যাতনের মাধ্যমে ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করা প্রসঙ্গও পাঠ করা হবে আজ।

ঈমান গ্রহণের পর পুনরায় কুফরি গ্রহণ করলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারিত করা হয়েছে এ সুরার মাধ্যমে। পারস্পারিক লেন-দেন, ন্যায়-বিচার, পরোপকার, আল্লাহর পথে দান ও ওয়াদা পালনের বিষয়াবলীও আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।

সর্বোপরি গোটা মানবজীবন, তার ঘটনাবলীও পরিণাম, গোটা পরকালীন জীবন, তার মূল্যবোধ ও দৃশাবলী এবং সমগ্র অদৃশ্য জগত, তার বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্য, মানব সত্ত্বা ও প্রকৃতির ওপর তার সুগভীর প্রভাব- এ সব কিছু নিয়েই এ সুরার আলোচনা ও পটভূমি গঠিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাদ্বয় বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।