আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক

0
118

বরুণ ব্যানার্জী:

অসহিষ্ণুতা, আধিপত্যবাদ, সীমাহীন ভোগবাদ, পুঁজিবাদ, অতি মুনাফা, লোভ, ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রভৃতি আজকাল সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছে। আর তারই বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে পৃথিবীব্যাপী, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ প্রভৃতি প্রতিনিয়ত দেখতে দেখতে আমরা অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এ ধরনের অনেক ঘটনা কম-বেশি আমাদের দেশেও ঘটছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে দেশে ঘটে যাওয়া কিছু লোমহর্ষক ও বীভৎস ঘটনা সচেতন আর বিবেকবান মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। আর গত কয়েক মাস ধরে আমরা দেশে যে সকল পৈশাচিকতার নজির দেখেছি তাতে মনে হয় না মনুষ্যত্বের ন্যূনতম কোন বোধ আমাদের মাঝে অবশিষ্ট আছে। আমরা দেখছি সন্তান তার পিতাকে হত্যা করছে, পিতা তার মাসুম বাচ্চাকে হত্যা করছে। আমরা দেখছি পরম মমতাময়ী মা তার নিজ সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করছে। স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে একে অপরকে হত্যা করছে। এসব চরম মানবিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত অনাচার, অবিচার, বৈষম্য, আইনের শাসনের অভাব, অশ্লীলতা,  লোভ, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা প্রভৃতি বিষয় দায়ী। একই সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার আর সহিংসতাকে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে মহিমান্বিত করার ব্যাপক প্রতিযোগিতাও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে আমরা মনে করছি। আইনের শাসন যখন অনুপস্থিত থাকে, দীর্ঘসূত্রিতা, প্রভাবযুক্ত আর পক্ষপাতমূলক বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষ যখন আস্থা হারিয়ে ফেলে তখন সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে, রাজনৈতিক প্রভাব যখন সব জায়গায় খাটানো শুরু হয়, যখন থানার ওসি, উপজেলার টিএনও এমনকি জেলার ডিসি-এসপিরা পর্যন্ত অলিগলি আর ফুটপাতের নেতা-ক্যাডারদের হুমকি-ধমকিকে উপেক্ষা করার সাহস হারিয়ে ফেলে। যখন কেউ মনে করে যে, অমুক নেতার ক্যাডার আমার বন্ধু অথবা আমি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের ওয়ার্ড কমিটির একজন মেম্বার হিসেবে আমাকে কিছু বলার সাধ্য কার, আমি যা খুশি তাই করবো আমার কিছুই হবে না, নেতার ক্যাডার হওয়ার কারণে আমার সাতখুন মাফ, তখন সমাজে অরাজকতা, অনাচার-অত্যাচার, বৈষম্য ব্যাপকহারে বাড়তে বাধ্য। আর এভাবেই রাজন হত্যাকারী নরপশু কামরুল, রাকিব হত্যাকারী, মিন্টু মিয়া আর শরীফরা সসম্মানে বেকসুর খালাস পেয়ে যাবে। আর বিবেকবান অসহায় সাধারণ মানুষ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে। এসব ভয়াবহ অনাচার আর পৈশাচিকতা থেকে রক্ষা পেতে সমাজের সচেতন নাগরিকদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে সকল অন্যায়-অবিচার, অশ্লীলতা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে। একমাত্র সুস্থ সামাজিক ও মানবিক চেতনাবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এ সকল বীভৎসতা বন্ধ করা সম্ভব।