অবশেষে আতরজান মহিলা কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

0
218

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা সদরে অবস্থিত আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আফজালুল হকের দায়েরকৃত রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে মাননীয় বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ মঙ্গরবার এই আদেশ জারি করেন। বিজ্ঞ আইনজীবি এড. মো. হুমায়ূন কবির ও মো. আল-আমিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৬-০৬-২০১৬ তারিখে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এসএম জগলুল হায়দারকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আফজালুল হক এক রীট আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে শিক্ষা সচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রুল নিশি জারী করেন। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে রীট পিটিশনটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মামলা চলাকালে জেলা শিক্ষা অফিসার বেতন বিলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করবেন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আফজালুল হক জানান, এসএম জগলুল হায়দার এমপি হিসেবে শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার পর থেকে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার পাশাপাশি কলেজের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন। তিনি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক কৃষ্ণপদ মন্ডলকে নিয়োগ দিয়ে বিশ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে পাতানো পরীক্ষার আয়োজন করে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মেজ ছেলের শ্বশুর  মিজানুর রহমানকে। তিনি সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সাবেক অধ্যক্ষকে দিয়ে অবৈধ ভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করিয়েছেন। এই কমিটিতে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে রামরঞ্জন বিশ্বাস, রুহিত দাশ মিস্ত্রী ও পরিমল কান্তি জোয়ার্দার নামে যে তিনজনকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে তাদের সন্তান কলেজে লেখাপড়া করছে না। আবার তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধির মধ্যে দু’জন পুরুষ শিক্ষক ও একজন মহিলা শিক্ষক রাখার বিধান থাকলেও তা লঙ্ঘন করে নারায়ন চন্দ্র চক্রবর্তী, এমএম সিরাজুল ইসলাম ও শাহাজান খানকে শিক্ষক প্রতিনিধি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এসএম জগলুল হায়দার এমপি’র বিরুদ্ধে আরও অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জনসম্মুখে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY