অপারেশন ক্লিন হার্ট’র দায়মুক্তি অবৈধ : পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

0
161

অনলাইন ডেস্ক :

বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে পরিচালিত অভিযানকে দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ের এ অপারেশনকে অবৈধ ঘোষণার এ রায়টি সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়। রায়ের মূল অংশ লেখেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করার পাশাপাশি সংযুক্তিও দেন অপর বিচারপতি আশরাফুল কামাল।
রায়ে বলা হয়, এই রায়ের ফলে ওই নৃশংসতা, নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি বা নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নিহতদের পক্ষে পরিবার বা তাদের ডিফেন্ডেন্টরা স্বাধীনভাবে অপরাধ সংগঠনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবেন। যৌথ বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই দেশের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের অধীনে। ক্ষতিপূরণের জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে তারা হাই কোর্টের রিট এখতিয়ারে প্রতিকার চাইতে পারে।
যুক্তিতর্ক ও আইন বিবেচনা করে আদালত বলে, পর্যালোচনায় আমরা দেখেছি, যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন ২০০৩ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রিটে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণে একটি তহবিল গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হলেও আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেয়নি। এ সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, কিন্তু এরপরও আমরা ওই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠনে নির্দেশনা দিচ্ছি না। অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় মানবাধিকার লংঘনের শিকার ব্যক্তিদের স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে সরকার চাইলে ফিলিপিন্স হিউম্যান রাইটস ভিক্টিমস রিপারেশন অ্যান্ড রেকগনিশন অ্যাক্ট অব ২০১৩’র মতো করে বাংলাদেশে আইন প্রণয়ন করতে পারে।
‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ২০১২ সালের ১৪ জুন হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৯ জুলাই বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ রুল দেয়।
রুলে ওই আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়। আইন, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রসচিব, সেনা সদর দপ্তরের কমান্ডার ইন চিফ অব আর্মড ফোর্সেস ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে এর জবাব দিতে বলে হাই কোর্ট। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ওই রায় আসে।
প্রসঙ্গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে ওই অভিযান চলে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সেনা সদস্যদরাও অংশ নেয়। প্রায় ৪ মাসের ওই অভিযানে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় বলে গণমাধ্যমের তথ্য, যারা সবাই হৃদেরাগে মারা গিয়েছিলেন বলে সে সময় অভিযান পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। ওই অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’ করা হয়।

এস এম পলাশ