অপরাধ না করেও মামলার আসামী বাবুলিয়ার তপন সাহা!

0
723

জাহিদ হোসাইন:
অপরাধ না করেও মামলার আসামী হলেন তপন সাহা। সে সাতক্ষীরা সদরের বাবুলিয়া গ্রামের মৃত সুবোল সাহার ছেলে। এলাকাবাসী জানান, বাবুলিয়া(শাহা পাড়া) গ্রামের মৃত সুবোল সাহা মারা যাওয়ার পর তার বড় ছেলে স্বপন সাহা আপন ছেট ভাই তপন সাহাকে জমি-জায়গার ভাগ না দিয়ে নিজেই ভোগ দখল করতে থাকে। তপন সাহা পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত জমির ভোগদখল পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হলে তারা একাধিকবার এ বিষয় নিয়ে সালিশ করেন। স্থানীয়রা তপনের জায়গা জমি ভাগ করে দেওয়ার কথা বললেও স্ত্রী পূর্ণিমা রানীর কু-পরামর্শে স্বপন সাহা জায়গা জমির ভাগ না দেওয়ার পায়তারা শুরু করে। সর্বশেষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ৫৪ শতক জমি দুই ভাইয়ের মধ্যে ২৭ শতক করে সমান ভাবে ভাগ করে দেয়। এর পর স্বপন সাহা নিজের অংশের জমিতে থাকা বড় বড় গাছ গুলো বিক্রি করে দিয়ে পরবর্তীতে ঐ শালিশ মানিনা বলে জানায় এবং পূনরায় ছোট ভাই তপনের অংশের জমিতে থাকা গাছ দাবি করে। ইতিমধ্যে তপন সাহা নিজের ১ বছরের মেয়ের অসুস্থতার কারণে একটি গাছ বিক্রি করে দেয়। ক্রেতারা সেই গাছ কাঁটতে আসলে স্বপনের স্ত্রী পূর্ণিমা রানী ও তার মেয়ে পপি রানী তাদের বাঁধা দেয়। এরপর তপন সাহার সাথে পূর্ণিমা রানী ও তার মেয়ে পপি রানীর কথা কাটাকাটি হতে থাকে। এ সময় স্বপন সাহা দুপুরে কাজ শেষ করে বাড়িতে আসলে পূর্ণিমা রানী স্বপনের সাথে ভাইয়ের বিরুদ্ধে নালিশ করতে উদ্যত হয়। রাগের মাথায় স্বপন সাহা পূর্ণিমা রানীকে মারপিট শুরু করে। হঠাৎ পূর্ণিমা রানি পাশে থাকা একটি কাঠের উপর পড়ে যায় এবং মারাত্মক আহত হয়। এ ঘটনাকে পুঁজি করে পূর্ণিমা রানী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং বাদি হয়ে গত ৭ জুলাই সাতক্ষীরা আদালতে তপন সাহাকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নামে মামলা করে।

তপন সাহা বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভাই স্বপন সাহা আমাকে জায়গা জমির ভাগ না দিয়ে দীর্ঘদিন নিজেই ভোগ দখল করে আসছে। স্থানীয়রা সর্বশেষ শালিশের মাধ্যমে আমার জায়গা জমি ভাগ করে দিলে আমার বউদি ক্রোধে আমার নামে একটি মিথ্যা, হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করেছে। আমি সরকারী চাকুরী করি। আমার চাকরীটা নষ্ট করার জন্য আমার বউদি উঠে পড়ে লেগেছে। আমি এখন মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এখন ওরা আমার ১ বছরের মেয়েকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

স্থানীয় ওয়ার্ডের পুলিশিং ফোরামের সভাপতি শওকত আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার সালিশের জন্য বসেছি। স্বপন ও তার স্ত্রী আমাদের সালিশ মানেনি। সর্বশেষ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর থানা পুলিশ দুই পক্ষকে হাজির হতে বললেও স্বপন সাহা হাজির হয়নি। কোথাও তারা পাত্তা না পেয়ে সর্বশেষ আদালতে একটি মিথ্যা, মনগড়া মামলা দায়ের করেছে। আমাদের জানামতে তপন সাহা খুব ভালো ছেলে। সে কোন ঝামেলাই যায় না। অথচ সে এখন মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্বপন সাহা বলেন, আমার ভাইয়ের জমি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সে আমার জায়গার গাছ বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমার স্ত্রী ও মেয়ে বাধা দিলে আমার ভাই সংঘবদ্ধ হয়ে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে মারপিট করে। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেছে।