অদ্ভুত উটের পিঠে যুক্তরাষ্ট্র

0
150

বরূণ ব্যানার্জী : ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলাম এবং মুসলিমবিদ্বেষী—এটা নতুন কথা নয়। যেটা নতুন, তা হচ্ছে, তিনি আমেরিকার মিডিয়াবিদ্বেষীও। তিনি সাংবাদিকদের ‘করাপ্ট পিপলস’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। কেন সাংবাদিকরা অসৎ, তার ব্যাখ্যা তিনি দেননি। কিভাবে তারা অসততা করছে, কিভাবে তারা সেই অসততার বলে একটা কিছু করছে, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্য প্রসঙ্গের জেরে। বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। প্রায় তিন মিলিয়ন ‘চোরা ভোট’ পড়েছে হিলারির পক্ষে। এই অভিযোগ তোলার পেছনে আছে ডেমোক্র্যাটরা তার বিজয়ে রুশ হ্যাকিংয়ের অভিযোগ আনায় এবং মিডিয়া তা ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশ করায়। নির্বাচনী মেশিনারি হ্যাক করে ফলাফল পাল্টে দিয়েছে রুশ হ্যাকাররা। বিশেষ করে ফ্লোরিডার ফলাফল পাল্টে দিয়ে ট্রাম্পকে জেতানো হয়েছে। সেখানে হিলারি অগ্রগামী ছিলেন প্রায় শেষাবধি। পেনসিলভানিয়ার ফলও তারা পাল্টে দিয়েছে। এভাবেই হেরে যাওয়া প্রার্থীকে ইলেক্টোরাল কলেজের সিংহাসনে বসিয়ে দিয়েছে তারা। সেই ‘কু-ইমেজ’ পাল্টাতেই ট্রাম্প উল্টো অভিযোগ করছেন, মিডিয়া করাপ্ট। যেহেতু সাংবাদিকদের প্রতিদিনকার রিপোর্টে, জনমত যাচাই ভোটে, দেশব্যাপী ট্রাম্পের বর্ণবাদী হুংকার, মুসলিমবিরোধিতার বিরুদ্ধে মিডিয়ার সৎ ও ত্বরিত তৎপরতা, তিনটি ডিবেটে হিলারির কাছে ধরাশায়ী হওয়া, মিডিয়ার জনমত যাচাইয়ে হেরে যাওয়া ট্রাম্পের ইমেজ তুলে ধরা, তার ১৮ বছর ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া, ট্রাম্প বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২৫ মিলিয়ন ডলার মেরে দেয়া, জুয়াড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে তার কুকীর্তি তুলে ধরা এবং হিলারি বিজয়ের পথ নিউজ দিয়ে সুনিশ্চিত করার ‘অপরাধে’ মিডিয়াকে করাপ্ট হিসেবে চিত্রিত করেছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ বিতর্কে তিনি হুমকি দেন এই বলে যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে হিলারিকে জেলে নিয়ে যাবেন। সব মিলিয়েই তিনি মিডিয়ার ওপর ক্ষ্যাপা।

সাংবাদিকরা নিরলসভাবে কাজ করেন। পালন করেন সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। ‘সমাজের শিক্ষক’ তারা। কোনো দুর্নাম ও হুমকির ভয়ে ভীত নন। তারা সূক্ষ্মভাবে কাজ সম্পাদন করেন। প্রেসিডেন্সিতে বসেই ট্রাম্প এমনসব কাজ শুরু করেছেন যে, গোটা দেশই কেবল নয়, বিশ্বনেতারাও চমকে যাচ্ছেন।পৃথিবীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে মানবতার ধসেরই যেন সূচনা হলো। মুসলিম নামের দেশ কুয়েত ট্রাম্পের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৭টি দেশের অভিবাসী ও ভ্রমণকারীদের নিষিদ্ধ করাকে সাপোর্ট করেছে। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের এই নীতির প্রতিও সমর্থন দিয়েছে—অভিবাসীপ্রত্যাশী ওই ৭টি দেশের যেসব খ্রিস্টান মানুষ বর্ডারে উপস্থিত হবে, তাদেরকে সাদরে গ্রহণের নির্দেশের। তার মানে, কুয়েত কোনো মুসলিম দেশ নয় বা তারা মানবতাবোধটিকে হারিয়ে ফেলেছে। তারা যে ইসরাইলের মতোই একটি মুসলিমবিরোধী শিখন্ডি দেশ, আজ তা পরিষ্কার। ওই দেশের ক্ষমতাসীনরা যে জনগণের অধিকারকে খর্ব করে অন্যায়কে বরণ করছে, তা-ই প্রকাশ পেয়েছে। ক্ষমতায়নের এমন ঘৃণ্য প্রকাশ গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেহারাকে নস্যাৎ করে দেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।