অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী বলে কথা

0
5723

বিশেষ প্রতিনিধি :
কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে অসুস্থ্যতার ভান ধরে ‘সিক বেডে’ ডিগ্রী দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষা দিচ্ছেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী সাবিয়া ইসলাম। সিক বেডে সার্বক্ষনিক কক্ষ পরিদর্শক থাকার নিয়ম থাকলেও সেখানে নেই কোন কক্ষ পরিদর্শক। ফলে রিতিমত বই দেখেই পরীক্ষা দিচ্ছেন ওই পরীক্ষার্থী।
শুধু তাই নয়, সাবিয়া ইসলাম পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারী নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন সরকারী গাড়িতে করে (স্বামী এডিএম এর ব্যবহ্নত গাড়িযোগে) সাতক্ষীরা থেকে কালিগঞ্জে প্রায় ৭০ কি:মি: আসা-যাওয়া করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় নকল বা পরীক্ষার নানা দূর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে বদ্ধপরিকর। সেখানে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রী অসুস্থ্যতার ভান করে সিক বেডে পাবলিক পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্নের জম্ম দিয়েছে।
জানাগেছে, এ বছর ডিগ্রী দ্বিতীয় পার্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর  থেকে। কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্রী হিসেবে ডিগ্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফারুক আহম্মেদের স্ত্রী সাবিয়া ইসলাম। যার রোল নম্বর- ১৩১০১০০৫৭৮৩। পরীক্ষা কেন্দ্র কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ। পরীক্ষার শুরু থেকেই তিনি সিক বেডে পরীক্ষা দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই পরীক্ষার্থী সিক বেডে বই খুলেই পরীক্ষার খাতায় লিখছেন। সেখানে কাগজে-কলমে একজন কক্ষ পরিদর্শক থাকলেও তিনি সেখানে যান না।
গতকাল ২৭ অক্টোরব ছিল ইসলামী শিক্ষা পরীক্ষা। একই ভাবে তিনি এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারী গাড়িতে চেপে তিনি প্রতিদিন সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ৫০ কি: মি: রাস্তা পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে যান কালিগঞ্জে। এক্ষেত্রে সরকারী অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও সে-টি নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য তার সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে সমাজ বিজ্ঞান পরীক্ষার দিন ওই কলেজের সহকারী হল সুপার ইয়াসিন আলী সাংবাদিকদেরকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিক বেডে সাবিয়া ইসলাম পরীক্ষা দিচ্ছে। ওই কক্ষের পাশের রুমে আমি গার্ড দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এ কে এম মহিউদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিব্রত হওয়া ছাড়া আসলে আমার কিছু করার নেই। তার পরেও দেখছি কি করা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইচ্ছে করলেই সরকারী গাড়ি ব্যবহার করে এডিএম এর স্ত্রী কালিগঞ্জে পরীক্ষা দিতে যেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে অনুমতির নিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়টিও আমার জানা নেই।
প্রসঙ্গত, ডিগ্রী প্রথম বর্ষের পরীক্ষার সময়ও পরীক্ষার্থী সাবিয়া ইসলাম একই ভাবে সিক বেডে সবগুলো পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সে সময় তার স্বামী সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ কালিগঞ্জের ইউএনও ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এডিএম হয়েছেন।

LEAVE A REPLY